দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুর © সংগৃহীত
সন্ত্রাসী দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে বিশাল সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আজ সোমবার (৯ মার্চ) ভোর পাঁচটা থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর সদস্যরা এই বিশেষ অভিযান শুরু করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি দীর্ঘ দিন ধরে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এখানে অবৈধ অস্ত্রের মজুদ এবং অপরাধীদের আত্মগোপনের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিকল্পিত অভিযান শুরু করা হয়। অভিযান চলাকালীন যাতে কোনো অপরাধী পালিয়ে যেতে না পারে, সে লক্ষ্যে সম্ভাব্য সকল পথে আগেভাগেই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুরের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় অভিযানটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। সদস্যদের কয়েকটি দলে ভাগ করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। একটি দল পাহাড়ের পাদদেশের বসতিগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে, আর অন্য দলগুলো গহিন পাহাড়ি পথ বেয়ে ওপরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পাহাড়ের ভেতরের সরু পথ, ঝোপঝাড় এবং পরিত্যক্ত ঘরগুলোতেও চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সরু পথের কারণে অনেক জায়গায় সদস্যদের ধাপে ধাপে এগোতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তেলের দাম, ব্যারেলে ছাড়াল ১০০ ডলার
চট্টগ্রাম গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান বর্তমানে চলমান রয়েছে। অভিযান শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
জেলা পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মো. রাসেল জানান, কেবল জঙ্গল সলিমপুর নয়, সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুরো জেলাজুড়েই যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে। তবে সীতাকুণ্ডের এই দুর্গম এলাকায় অধিক সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আজ ভোর হওয়ার আগেই বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পাহাড়ের চারপাশে অবস্থান নেন। সকাল হওয়ার সাথে সাথে তারা পাহাড়ের গভীরে প্রবেশ করেন এবং তল্লাশি জোরদার করেন। বর্তমানে পুরো এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।