আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল আলম © সংগৃহীত
খাগড়াছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং জেলা আওয়ামী লীগের নেতা মো. রফিকুল আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর ভাটারা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি এবং সহিংসতাসহ অন্তত ৪৭টি মামলা রয়েছে।
ভাটারা থানা পুলিশ জানায়, ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর রফিকুল আলম খাগড়াছড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকায় এসে আত্মগোপন করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএমপির ভাটারা থানার একটি দল ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল।
আরও পড়ুন: ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মির্জা সায়েম মাহমুদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘ডিএমপির ভাটারা থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের সময় তিনি ওই এলাকার একটি বাসায় অবস্থান করছিলেন। তার বিরুদ্ধে থাকা ৪৭টি মামলার মধ্যে অনেকগুলোই অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর।’
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ উসকে দেওয়া, পাহাড়ের স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে প্রতিপক্ষকে গুম এবং হত্যার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গত বছরের ৪ আগস্ট জেলা বিএনপি সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার অন্যতম প্রধান আসামি তিনি।
খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ এই সদস্য টানা দুই মেয়াদে পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তার বিরুদ্ধে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে দ্রুত খাগড়াছড়িতে স্থানান্তর করা হবে এবং আদালতের মাধ্যমে রিমান্ড চেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।