আটক হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা © সংগৃহীত
হবিগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করতে গিয়ে জনতা ও সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক এনামুল হক সাকিবসহ তিনজন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের চৌধুরী বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করে।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, চৌধুরী বাজারের ‘শেখ জামাল অটোমেটিক ফ্লাওয়ার মিলস’-এর মালিক শেখ জামাল মিয়ার কাছে দীর্ঘদিন ধরে ‘মবের’ ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন সাকিব। প্রায় ১৫ দিন আগে সাকিবের নেতৃত্বাধীন চক্রটি ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সাকিব তার বাহিনী নিয়ে আবারও ওই দোকানে গিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় জনতা তাদের ঘেরাও করে তিনজনকে আটক করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
আটক এনামুল হক সাকিব উমেদনগরের আব্দুল মতিনের ছেলে। বাকি দুজন হলেন—একই এলাকার শিহাব আহমেদ (২২) এবং নসরতপুরের মোশারফ হোসেন (২৪)।
আরও পড়ুন: মারা গেছেন বাঞ্ছারামপুরের ইউএনও ফেরদৌস আরা
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকেই সাকিব নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে শহরে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর মহিলা কলেজ রোডে হরিজন সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির বাসায় হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষকে মামলায় ফাঁসানো এবং ‘ডেভিল’ বা অপরাধী হিসেবে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিনি ও তার চক্রটি নিয়মিত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন।
ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সাকিবের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট চাঁদাবাজির অভিযোগ পেয়ে সেনাবাহিনী তাদের আটক করে আমাদের কাছে সোপর্দ করেছে। সাকিব বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের ‘মব জাস্টিসের’ হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করতেন বলে প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শেখ জামাল এই ঘটনায় সাকিবের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সাকিবের আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।