আহত ছাত্রদল নেতা © সংগৃহীত
রাজধানীর নিউমার্কেটে ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা তোলায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে নিউমার্কেট থানা যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের অন্তত ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিউমার্কেটের বলাকা সিনেমা হলের সামনের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, মো. সুমন সিকদার, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহমান, সায়মন ইসলাম, সাগর খান ও জিহাদুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন।
এ ঘটনায় পর ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য জিহাদুল ইসলাম বলেন, ‘আজ সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিউমার্কেট যুবদলের সদস্য সচিব কে. এম. চঞ্চলের কয়েকজন অনুসারী বলাকা সিনেমা হলের সামনে চাঁদা তুলতে আসেন। এ সময় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদ করার সময় তারা আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তারা তাদের নেতা চঞ্চলকে ফোন দেন।’
তিনি বলেন, ‘এরপর চঞ্চলের নেতৃত্বে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন লোক পেছন থেকে চাইনিজ কুড়াল, অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঢাকা কলেজের অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মুশফিক ভাই, খন্দকার প্রিন্স ভাই ও হাসান ভাই রয়েছেন। এ ছাড়া আরও সাত-আটজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।’
ছাত্রদল নেতা আরও বলেন, ‘তারা প্রতিদিন চাঁদা তোলেন। প্রায় ৩৫০টি দোকান থেকে চাঁদা তোলেন তারা। হামলায় আমার মাথা ফেটে গেছে। পেছন থেকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। আমার হাতও ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় আরও আট থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।’
তিনি দাবি করেন, ‘এখানে যারা এসেছিল, তারা সবাই ছাত্রদলের পদধারী ও কর্মী।’
আরও পড়ুন: ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ওপর নিউমার্কেট যুবদলের হামলায় আহত ৮
অন্যদিকে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে দোকান বসান নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের লোকজন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী ওই দোকান তুলে দিতে গেলে প্রথমে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে চঞ্চলের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও রামদা নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মারধর করেন।
এ খবর ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের শতাধিক নেতা-কর্মী নিউমার্কেটের প্রিয়াঙ্গন মার্কেট-সংলগ্ন বসুন্ধরা গলিতে চঞ্চলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবার সংঘর্ষ বাধে। এতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক হাসান ফরাজি বলেন, সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, সুমন শিকদার, আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, সায়মন ইসলাম, মুশফিকুর রহিম, জিহাদুল ইসলামসহ অন্তত ১৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তবে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কে এম চঞ্চল। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
কে এম চঞ্চল বলেন, ‘ফুটপাতে যুবদলের কিছু কর্মী ব্যবসা করে। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী তাদের মারধর করে। আমার অফিসও ভাঙচুর করেছে। লুটপাট চালিয়েছে।’
এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিন উদ্দিন বলেন, ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ওসি বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’