আইসিসিকে ‘ওয়েক-আপ কল’র আহ্বান শশী থারুরের

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৪ PM
শশী থারুর ও আইসিসি লোগো

শশী থারুর ও আইসিসি লোগো © সংগৃহীত

শুরুটা হয়েছিল মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে। আইপিএলে দল থেকে হঠাৎ করেই এই পেসারকে ছেঁটে ফেলার ঘটনাটি বাংলাদেশ ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। এই ঘটনার পরই ফুঁসে ওঠে দেশের ক্রিকেট মহল এবং বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ওপরও চাপ বাড়তে থাকে।

এরই ধারাবাহিকতায় নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাটির দাবি ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত সফরে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত বদলাতে নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করলেও নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেনি বিসিবি। 

বাংলাদেশের এই অনড় অবস্থানে শেষ পর্যন্ত বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় আইসিসি। টাইগারদের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়।

বাংলাদেশের ন্যায্য দাবির পক্ষে শুরু থেকেই দৃঢ় অবস্থান নেয় পাকিস্তানও। অবশ্য কেবল মুখেই সমর্থন নয়, আইসিসির ভোটাভুটিতেও একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

এদিকে পাকিস্তান নিজেও বড় দোটানায় পড়েছিল। কিন্তু সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা। তবে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি না খেলার ঘোষণা দেয় দেশটির ক্রিকেট বোর্ড।

যদিও পিসিবির এই সিদ্ধান্তে আইসিসি ও বিশ্বকাপের সম্প্রচারকারীদের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে ঘিরে যে বিপুল বাণিজ্যিক আগ্রহ ও বিজ্ঞাপন রাজস্ব থাকে, তা এক নিমিষেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। 

আর পুরো পরিস্থিতি ঘোলাটে করার পেছনে মোস্তাফিজ ইস্যু এবং ভারতেরই দায় দেখছেন দেশটির কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার সদস্য শশী থারুর। বার্তা সংস্থা ‘এএনআই’র সঙ্গে আলাপে তার ভাষ্য, ‘খোলাখুলি বললে, দুই পক্ষ থেকেই যেভাবে খেলাধুলাকে রাজনীতিকরণ করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক।’

মোস্তাফিজ প্রসঙ্গে শশী থারুর বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতায় খেলার চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। রাজনীতির অনুপ্রবেশ এখানে স্পষ্ট। আমার মতে, বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া কিছুটা অতিরঞ্জিত ছিল, তবে সেটিও একই প্রবণতার প্রতিফলন। পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি দেখাতে চাইছে।’

তিনি যোগ করেন, ‘পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, আমাদের সত্যিই বোঝাপড়ায় পৌঁছানো দরকার যে খেলাধুলা-বিশেষ করে ক্রিকেটের মতো একটি খেলা, যা এত মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িত; মানুষকে অন্তত মাঠে একত্র করার মাধ্যম হওয়া উচিত, বিভক্ত করার নয়।’ 

দেশটির লোকসভার এই সদস্য বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে মনে করি, এটি এখন সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য একটি ‘ওয়েক-আপ কল’। জরুরি ভিত্তিতে পারস্পরিক যোগাযোগ শুরু করা দরকার। আইসিসি এই আলোচনার প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। সবাই মিলে বলা উচিত, এই ফালতু কাজগুলো বন্ধ করা যাক। এভাবে চিরকাল চলতে পারে না।’

বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করতে শাবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতির ‘স…
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
কোহলির অবসরে তিক্ততার ইঙ্গিত, আলোচনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
ইসলামী আন্দোলন নেতার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
এনটিআরসিএর নিয়োগ: দুই বিষয়ের বাংলা পরীক্ষা ১৫ নম্বরে
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে দুই সন্তানের জননীর অনশন
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
নতুন মাইলফলক ছুঁলেন লিটন
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬