বিসিবি ও পিসিবি © সংগৃহীত
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে যাওয়া আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য পাকিস্তান জাতীয় দলের সকল প্রস্তুতি স্থগিত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জিও নিউজ জানিয়েছে, পিসিবি কর্তৃপক্ষ তাদের টিম ম্যানেজমেন্টকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রস্তুতি বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে।
একইসঙ্গে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে একটি ‘বিকল্প পরিকল্পনা’ তৈরি রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মূলত ভারতের মাটিতে খেলতে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রতি সংহতি জানিয়েই পাকিস্তান এই অবস্থান নিয়েছে।
পিসিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতে না যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে তারা ‘যৌক্তিক ও বৈধ’ বলে মনে করেন। যদি বাংলাদেশের এই অমীমাংসিত ইস্যুটির সমাধান না হয়, তবে পাকিস্তান টুর্নামেন্টে নিজেদের অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করবে। পিসিবি’র মতে, স্বাগতিক হওয়ার সুযোগ নিয়ে কোনো দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি বা হুমকি দেওয়া উচিত নয়।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি পিসিবি প্রস্তাব দিয়েছিল যে, শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু পাওয়া না গেলে তারা বাংলাদেশের ম্যাচগুলো পাকিস্তানে আয়োজন করতে ইচ্ছুক। পাকিস্তানের ভেন্যুগুলো বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫-এর মতো বড় ইভেন্ট আয়োজনের অভিজ্ঞতার কথা তারা আইসিসিকে মনে করিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড (সিআই) স্পষ্ট করেছে যে আইসিসি তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কা থেকে সরিয়ে নেবে না। বাংলাদেশের ভ্রমণ সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে গ্রুপ পরিবর্তনের যে খবর রটেছিল, আয়ারল্যান্ড তা নাকচ করে দিয়ে শ্রীলঙ্কায় খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আইসিসি এবং বিসিবি-র সাম্প্রতিক আলোচনা অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশকে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। বিসিবি ভারতে না খেলে বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে আইসিসি এখনো তাদের মূল সূচিতে অটল থেকে দাবি করেছে যে, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।
যদি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে র্যাঙ্কিং অনুযায়ী স্কটল্যান্ডকে তাদের বিকল্প দল হিসেবে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
সংবাদসূত্র: জিও সুপার