প্রশ্ন নারী এমপির
নারী এমপি রাশেদা বেগম হীরা © সংগৃহীত
প্রয়োজনীয় রেশম চাষ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের ঐতিহ্যবাহী ও আকর্ষণীয় মসলিন শিল্প লোকসানের মুখ দেখছে। রেশম পোকার খাদ্য তুতগাছ হারাতে বসায় এটি এখন রুগ্ন শিল্পে পরিণত হচ্ছে। এ অবস্থায় তাঁতিরা পুরোপুরি ভারতনির্ভর হয়ে গেছেন। শিল্প রক্ষায় সরকার কী উদ্যোগ নিচ্ছে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রাশেদা বেগম হীরা।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জনগুরুত্বপূর্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই প্রশ্ন করেন। রাশেদা বেগম হীরা বলেন, আমাদের দেশে মসলিন একটি আকর্ষণীয় বস্ত্র শিল্প, এটি বাংলাদেশের একটি জিআই পণ্যও বটে। কিন্তু এই শিল্প দিন দিন পরিকল্পনার অভাবে রুগ্ন শিল্পে পরিণত হচ্ছে। এই শিল্পের প্রধান রেশম শিল্প বা সেরিকালচার, এই রেশম শিল্পের মণ্ড তৈরি করার জন্য প্রয়োজন গুটিপোকা। আমরা দেখেছি বিগত দিনে রাস্তার পাশে তুতগাছের চাষ হতো এবং সেখান থেকে গুটিপোকা দিয়ে মণ্ড তৈরি হতো, সেই মণ্ড থেকে সেরিকালচারের সেই মসলিনটা তৈরি হতো।
তিনি বলেন, কিন্তু এখন যেহেতু এই ধরনের প্রকল্প নাই, সেজন্য আমাদের তাঁতিরা পুরোপুরি ভারত নির্ভর হয়ে গেছে এবং মণ্ডটা ভারত থেকে আমদানি করতে হয় বলে তাদের খুবই লোকসান হচ্ছে এবং এটা একটা রুগ্ন শিল্পে পরিণত হচ্ছে। আমি জানতে চাই প্রকল্পটি আবার পুনরুজ্জীবন করবেন কিনা এবং আমাদের মসলিন, গর্ব করার মতো শিল্পটি আবার বাঁচিয়ে রাখার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন কিনা?
জবাবে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শরীফুল আলম) বলেন, এই মসলিন আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের ইমোশন। শত বছরের এই ঐতিহ্য সত্যিই অনেকটা প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে। আমরা সরকারে আসার পর প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে ডেকে বসেছেন, আমাদের সাথে কথা বলেছেন এবং ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে আমরা এই মসলিন, এই রেশম শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জাপানের সাথে আমাদের একটি চুক্তি করেছেন। এর মধ্য দিয়ে একটা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে, যাতে প্রযুক্তি হস্তান্তর করা, উন্নত বিশ্বের গ্লোবালাইজেশনের যুগে এই প্রযুক্তি যাতে আমাদের এই পুরনো পদ্ধতি থেকে বের হয়ে আমরা এই রেশম শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যেতে পারি।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমরা চায়নার সাথেও কথা বলেছি, জিনজিয়াং ইউনিভার্সিটির একটা বিশেষজ্ঞ টিমও এসেছে। তারাও এখানে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে চায়। আমরা ইতোমধ্যে ভূমিমন্ত্রী মহোদয়ের সাথেও পরামর্শ করেছি। আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য যারা আছেন, তাদের সাথেও আমরা বসেছি। নিজেরা আমরা ভিজিট করেছি, এই রাজশাহীর রেশম শিল্পকে কীভাবে সমৃদ্ধ করা যায়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছর রাজশাহীকে অবহেলিত করে রাখা হয়েছে, এই রেশম শিল্পের উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় নাই। আমরা ইতোমধ্যেই বন্ধ কারখানার ৫টি লুম চালু করেছি এবং আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে আরও ১০টি লুম চালু করার জন্য আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমরা চাচ্ছি, এই যে গুটিপোকার কথা বলেছেন, আপনারা যে তুতগাছের কথা বলেছেন, এই তুতগাছের প্রচুর জমি আছে আমাদের চাষ করার জন্য। কিন্তু সে রেশমের যদি ব্যবহার বৃদ্ধি না হয়, তাহলে গাছ উৎপাদন করে তো কোনো লাভ নাই।
তিনি বলেন, আমরা প্রতিটা ক্ষেত্রে যেমনিভাবে রেশমের প্রসার বৃদ্ধি করা, ব্যবহার করা, বিদেশের মার্কেট প্রমোশন করা, আমাদের ফ্যাক্টরিগুলোকে চালু করা এবং পাশাপাশি জাতের যে একটা সমস্যা, এটা বাইরে থেকেও প্রযুক্তি আহরণ করে আমরা যাতে আমাদের এই রেশম শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে পারি, আমরা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে আমরা অনেকগুলো কর্মসূচি নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ্ আশা করি, আমাদের সরকারের এই সময়ের মধ্যে আমরা একটা দৃশ্যমান অগ্রগতি আমরা জাতিকে দেখাতে পারব, ইনশাআল্লাহ্।