বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে মামলা, গ্রেপ্তার ৪ © সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইদ্রিস আলী ঘটনার আট দিন পর আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার পর ঘটনায় প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনকারী সাদেক (২৯), কামরুল হাসান (৩৯), হানিফ (৩৪) ও রিপন (৩২)। সাদেক, কামরুল ও হানিফকে গতকাল মঙ্গলবার দিনে এবং রিপনকে রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবি ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা অস্ত্র প্রদর্শন, দলাদলি ও মারামারিতে জড়িয়েছে, তাদের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রদর্শিত অস্ত্রের একটি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি অস্ত্রগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জনমনে ভয়-ভীতি সৃষ্টি করে এমন সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে, গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ড পৌর সদরে দলটির দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় অস্ত্র প্রদর্শন, ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী এবং উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একই স্থান ও সময়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই পক্ষকে পৃথক সময়ে কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু কর্মসূচির দিন দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা মুখোমুখি হলে উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে এক পক্ষ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় অবরোধ করলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
সংঘর্ষের পর প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এসব ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অস্ত্রধারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি প্রদর্শিত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।