পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়ের আটটি ছবির সমন্বিত চিত্র © সংগৃহীত
আগামী ১২ আগস্ট আকাশে দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের ওপর দিয়ে চাঁদের ছায়া দ্রুত অতিক্রম করবে। এ সময় সর্বোচ্চ ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের জন্য সূর্য পুরোপুরি ঢেকে যাবে। ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে ১৯৯৯ সালের পর এটিই প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।
বুধবার ১২ আগস্ট বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে শুরু হয়ে ১৩ আগস্ট রাত ১টা ৫৮ মিনিটে শেষ হবে ২০২৬ সালের সূর্যগ্রহণ। তবে এই গ্রহণ বাংলাদেশ থেকে দৃশ্যমান হবে না।পূর্ণগ্রাসের প্রধান পথ রয়েছে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনসহ কয়েকটি অঞ্চলে। এ ছাড়া পশ্চিম ইউরোপের বেশির ভাগ এলাকা, উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার কিছু অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি ছোট অংশ থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
সার্বিকভাবে, বিশ্বের প্রায় ৯৮ কোটি মানুষ সূর্যকে অন্তত আংশিকভাবে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পারবেন। অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতি আটজনের একজনের মতো মানুষ এই গ্রহণের কোনো না কোনো পর্যায় দেখতে পারবেন।
সূর্যগ্রহণ কীভাবে হয়
চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চলে এসে সূর্যের আলো আংশিক বা পুরোপুরি আটকে দেয়, তখন সূর্যগ্রহণ ঘটে। সূর্যগ্রহণ চার ধরনের আংশিক, পূর্ণগ্রাস, বলয়াকার ও সংকর।
আংশিক সূর্যগ্রহণে চাঁদ সূর্যের একটি অংশ ঢেকে দেয়। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণে চাঁদ পুরো সূর্যকে ঢেকে ফেলে। তখন দিনের আলো অনেকটা গোধূলির মতো হয়ে যায় এবং সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা দেখা যায়।
বলয়াকার গ্রহণে চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না। ফলে সূর্যের চারপাশে উজ্জ্বল আলোর বলয় দেখা যায়। আর সংকর সূর্যগ্রহণ হলো সবচেয়ে বিরল ধরন, যেখানে গ্রহণের পথে পূর্ণগ্রাস ও বলয়াকার দুই ধরনের অবস্থাই দেখা যেতে পারে।
সূর্য চাঁদের চেয়ে প্রায় ৪০০ গুণ চওড়া এবং প্রায় ৪০০ গুণ বেশি দূরে অবস্থান করায় পৃথিবী থেকে দুটি প্রায় একই আকারের দেখায়। এ কারণেই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সম্ভব হয়।
কোন কোন দেশে পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে
১২ আগস্ট স্পেন, আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডের পাশাপাশি রাশিয়া ও পর্তুগালের কিছু অংশ থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এসব এলাকায় প্রায় দেড় কোটি মানুষ পূর্ণগ্রাসের পথে থাকবেন।
উত্তর ও পূর্ব স্পেনের লিওন, ভ্যালাডোলিড, সারাগোসা, টেরুয়েল ও ভ্যালেন্সিয়া শহর পূর্ণগ্রাসের পথের মধ্যে রয়েছে। পশ্চিম স্পেনে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৭ মিনিটের দিকে পূর্ণগ্রাস শুরু হবে। অবস্থানভেদে এটি সর্বোচ্চ ১১০ সেকেন্ড স্থায়ী হতে পারে। তবে মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা পূর্ণগ্রাসের পথের ঠিক বাইরে থাকবে। এসব শহর থেকে সূর্যের ৯৯ শতাংশের বেশি ঢাকা পড়া দেখা যাবে।
যেসব দেশ থেকে আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে
ইউরোপের বেশির ভাগ এলাকা থেকে গভীর আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। অনেক স্থানে সূর্য অস্ত যাওয়ার সময়ও গ্রহণ চলতে থাকবে। প্যারিস থেকে সূর্যের প্রায় ৯২ শতাংশ, লন্ডন থেকে ৯১ শতাংশ এবং বার্লিন থেকে ৮৫ শতাংশ ঢাকা পড়া দেখা যাবে। পূর্ব ইউরোপের অনেক শহরে গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই সূর্য অস্ত যাবে।
উত্তর আফ্রিকার আলজিয়ার্সে সূর্যের প্রায় ৯৮ শতাংশ এবং কাসাব্লাঙ্কায় প্রায় ৮৭ শতাংশ ঢাকা পড়বে। তবে দুই শহরেই গ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই সূর্য অস্ত যাবে। উত্তর আমেরিকা থেকে তুলনামূলকভাবে কম মাত্রায় গ্রহণ দেখা যাবে। কানাডার সেন্ট জনস শহর থেকে প্রায় ৫৩ শতাংশ, মন্ট্রিয়ল থেকে ১৮ শতাংশ এবং টরন্টো থেকে প্রায় ৮ শতাংশ সূর্য ঢাকা পড়বে।
আরও দেখুন: মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে যেসব পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ জরুরি
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার কিছু অংশে সর্বোচ্চ প্রায় ৩৭ শতাংশ গ্রহণ দেখা যেতে পারে। উত্তর-পূর্ব মেইনে প্রায় ২৮ শতাংশ এবং নিউইয়র্কে প্রায় ১০ শতাংশ গ্রহণ দেখা যাবে। দেশটির মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে গ্রহণের প্রভাব খুবই সামান্য থাকবে।
কত ঘন ঘন সূর্যগ্রহণ হয়
নাসার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর পৃথিবীর কোথাও না কোথাও দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। এর মধ্যে আংশিক, বলয়াকার, পূর্ণগ্রাস ও সংকর সব ধরনের গ্রহণই রয়েছে।
পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বিরল। এক শতাব্দীতে গড়ে ৬৬টি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটে, অর্থাৎ গড়ে প্রায় দেড় বছরে একবার কোথাও না কোথাও এমন গ্রহণ দেখা যায়। সব সূর্যগ্রহণের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আংশিক, এক-তৃতীয়াংশ বলয়াকার, এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি পূর্ণগ্রাস এবং প্রায় ৫ শতাংশ সংকর ধরনের।
পরবর্তী পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০২৭ সালের ২ আগস্ট। সেটি দক্ষিণ স্পেন, উত্তর আফ্রিকা ও ইয়েমেনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে।