সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম © সংগৃহীত
ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছে ফ্রান্স। ২১ জুলাই দেশটির পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিলটি পাস হওয়ার মাধ্যমে এমন কঠোর পদক্ষেপ নিল প্যারিস। খবর আনাদোলু এজেন্সীর
নতুন আইন অনুযায়ী, ইইউর ডিজিটাল এজ অফ কনসেন্ট বা ডিজিটাল সম্মতির বয়স ১৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনটি দুটি ধাপে কার্যকর করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য নতুন কোনো অ্যাকাউন্ট খোলা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে এবং ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে তাদের বিদ্যমান সব অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে হবে। বর্তমানে চূড়ান্ত বাস্তবায়নের আগে দেশটির কনস্টিটিউশনাল কাউন্সিলের (সাংবিধানিক আদালত) পর্যালোচনার অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তবে আইনটির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক এর নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং প্ল্যাটফর্মগুলো কীভাবে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই করবে এবং কে এই প্রক্রিয়া তদারকি করবে—সেই সংক্রান্ত সুস্পষ্ট বিধানগুলো আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়া।
নতুন বিধিমালার আওতায় ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিবন্ধন করতে পারবে না সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। টিকিটক, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং রেডডিটসহ গেমিং প্ল্যাটফর্মে থাকা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ফিচারগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে। তবে শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক তথ্যসূত্রমূলক প্ল্যাটফর্মগুলোকে এর বাইরে রাখা হয়েছে।
অবশ্য আইনে নির্দিষ্ট কোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। বরং ২০০৪ সালের আইনের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের সাধারণ সংজ্ঞার ওপর ভিত্তি করেই এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। ফলে যেসব গেমিং বা অন্য সেবায় সোশ্যাল ফিচার সংযুক্ত রয়েছে (যেমন অস্ট্রেলিয়ায় ডিসকর্ড-এর ক্ষেত্রে দেখা গেছে), সেগুলোর আইনগত অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া, এই আইনের মাধ্যমে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে হাইস্কুলগুলোতেও মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারিত করা হয়েছে, যা আগে শুধু প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুলে কার্যকর ছিল। ২০২৪ সালের হ্যারিস ইন্টারেক্টিভ জরিপ অনুযায়ী, ফ্রান্সে ৭৩ শতাংশ মানুষ এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে। ফলে আইনটির রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও এর কারিগরি ও আইনি বাস্তবায়ন নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।