বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মানববন্ধন © টিডিসি ছবি
ভেটেরিনারি পেশার যথাযথ মর্যাদা, পেশাগত অধিকার সংরক্ষণ এবং তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বিভিএসডব্লিউএ)।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে একই সময়ে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের অংশ হিসেবে বাকৃবিতেও এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে ভেটেরিনারি অনুষদের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ভেটেরিনারি পেশার স্বকীয়তা ও ক্যাডার কাঠামোর মর্যাদা রক্ষায় নন-ভেটেরিনারিয়ানদের পদোন্নতি ও প্রশাসনিক দায়িত্বের সুস্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরোধিতা নয়, বরং পেশাগত মর্যাদা ও যৌক্তিক অধিকার রক্ষায় তারা সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ চান।
শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আমাদের দাবিগুলো পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিক। আমাদের দাবিগুলো যৌক্তিক। সরকার যেসব সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। দাবি মানা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’
ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী তানভীন ইসলাম বলেন, ‘ভেটেরিনারিয়ানরা হেলথ অফিসার। অথচ সহকারী হেলথ অফিসার পদে কীভাবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, সেটি আমাদের প্রশ্ন। দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করে একজন ভেটেরিনারিয়ানকে যদি ডিপ্লোমাধারীদের অধীনে কাজ করতে হয়, তাহলে তা কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
মানববন্ধন থেকে বিভিএসডব্লিউএর সাধারণ সম্পাদক বুরহান উদ্দিন সিয়াম শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো, প্রতিটি উপজেলায় চারজন ভেটেরিনারি সার্জনের পদ দ্রুত সৃজন করে নিবন্ধিত ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ কার্যকর করা; সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার (৯ম গ্রেড) পদে শুধুমাত্র নিবন্ধিত ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ দেওয়া; এবং ক্যাডার কাঠামোর বাইরে নন-ভেটেরিনারিয়ানদের পদোন্নতি দিয়ে নিবন্ধিত ভেটেরিনারিয়ানদের সমকক্ষ বা উচ্চতর পদে পদায়নের সুযোগ ভবিষ্যতে না রাখা।
বুরহান উদ্দিন সিয়াম বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার পদ সৃষ্টির পর ডিপ্লোমাধারীদের এ পদে নিয়োগ দেওয়া হলে তারা কার অধীনে এবং কীভাবে কাজ করবেন, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত ভেটেরিনারিয়ানরাই চিকিৎসা ও পেশাগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। প্যারাভেটরা তাদের অধীনে থেকে নির্ধারিত সহায়ক কাজ করবেন। তাই উপজেলা পর্যায়ে সরাসরি ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার না থাকলে ডিপ্লোমাধারীদের এমন দায়িত্বশীল পদে নিয়োগ দেওয়া হলে তা ভেটেরিনারিয়ানদের পেশাগত অধিকার, জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিকল্যাণের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’