হামলার শিকার আহত সাজ্জাদ, সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মো. আশেক। © টিডিসি ছবি
কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় সাংবাদিকসহ তিনজনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার হারবাং স্টেশনসংলগ্ন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এতে সাজ্জাদ নামে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত অপর দুজন সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মো. আশেক চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হারবাং এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মাদক ব্যবসা করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার ঘটনায় সাজ্জাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এ সময় মামুন ও আশেক তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুর সাড়ে ২টার দিকে হারবাং স্টেশনসংলগ্ন মহাসড়কে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাজ্জাদ ও মো. আশেকের ওপর হামলা করে। এতে সাজ্জাদ গুরুতর আহত হন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের মধ্যে তারা হারবাংয়ের মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। এর জেরে মাদক ব্যবসায়ী মো. বেলাল, কফিল উদ্দিন ও শফিউল আলমের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাদের হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনজন আহত হন। সাজ্জাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এ ঘটনায় তারা চকরিয়া থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। তারা বলেন, ‘এলাকায় মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে তাঁদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।’
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘মাদক সমাজ ও সমাজের মানুষকে ধ্বংস করে, মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় হামলার শিকার হয়েছেন এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’