রাজধানীর মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজে হামলা © টিডিসি ফটো
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটে হামলার জের ধরে পাল্টা হামলার করা হয়েছে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজে ঢুকে এই হামলা চালায়।
জানা গেছে, এর আগে রবিবার মোহাম্মদপুর এলাকার ২৮ জন তরুণ গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাথে মধ্যে গন্ডগোল হয়। এর জেরে বহিরাগতদের নিয়ে গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের গেটে হামলা করে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ শিক্ষার্থীরা।
মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে এসে কলেজের অন্তত সাত-আটটি শ্রেণিকক্ষ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় হামলাকারীরা শিক্ষকদের দুই-তিনটি গাড়ি এবং কলেজের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোও ভেঙে ফেলে। ঘটনার সময় কলেজে মাত্র ২০-৩০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকায় কোনো ছাত্র আহত না হলেও ছাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ভীতসন্ত্রস্ত ছাত্রীরা আত্মরক্ষার্থে কলেজের একটি রুমে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের সংশ্লিষ্ট এক শিক্ষক জানান, গত দুই দিন ধরে উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও ঝামেলা চলছিল। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার একবার দুই পক্ষ আলোচনায় বসলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। এর রেশ ধরেই আজকের এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনার সাথে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই বরং এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যকার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকেই উদ্ভূত হয়েছে বলে কলেজের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাবির ছাত্রাবাসের সামনে টিটন হত্যায় ফের আলোচনায় সেই ইমন
এ বিষয়ে গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী শাহেলা পারভীন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গত তিন দিন ধরে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে আমাদের শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় গন্ডগোল চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত জানিয়ে তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকার ২৮ জন তরুণ ক্যাম্পাসের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে পালানোর চেষ্টা করলে গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয় জানতে চায় এবং নাম লিখতে বলে। এ নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে ওই ছাত্রকে একটি চড় মারা হয়। পরে তারা বাইরে গিয়ে বিহারী কলোনির ছেলেদের জড়ো করে নিয়ে আসে। ভিডিও ফুটেজের বরাতে অধ্যক্ষ বলেন, বহিরাগতরা ইনস্টিটিউটের গেটে এসে ধাক্কাধাক্কি ও গালিগালাজ শুরু করলে শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ করতে বের হয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে গ্রাফিক আর্টসের এক শিক্ষার্থীকে কপালে ও সারা শরীরে গুরুতর আহত করা হয়, যাকে পরবর্তীতে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অধ্যক্ষ আরও উল্লেখ করেন, গতকাল লালমাটিয়া এলাকায় আমাদের শিক্ষার্থীরা গেলে তাদের হুমকি দেওয়া হয় এবং আজও লালমাটিয়া এলাকায় আমাদের তিন শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালিয়ে একজনকে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দিয়ে সহযোগিতা করা হলেও বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল কিছু ছেলেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আটকে রাখলে পুলিশ ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আমি এই মুহুর্তে দাপ্তরিক কাজে অধিদপ্তরে থাকলেও স্যারদের সাথে যোগাযোগ করে জেনেছি আজ অভিভাবকদের ডাকার কথা ছিল। এরপরই হঠাৎ করে লালমাটিয়া আমাদের এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলা করার জের ধরে হয়তো এই ঘটনাটি ঘটেছে। মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে ভাংচুর হয়েছে কি না তা তিনি সরেজমিনে গিয়ে নিশ্চিত করবেন বলে জানান তিনি।