শেরপুর সরকারি কলেজ

টিনশেডের প্রশাসনিক ভবনে চলছে কার্যক্রম, ৬২ বছর পেরোলেও হয়নি অডিটোরিয়াম

শেরপুর সরকারি কলেজের টিনশেড ভবন

শেরপুর সরকারি কলেজের টিনশেড ভবন © সংগৃহীত

ভারতের মেঘালয় রাজ্য ঘেঁষা শেরপুর জেলা। জেলার উচ্চ শিক্ষার একমাত্র বিদ্যাপীঠ শেরপুর সরকারি কলেজ। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ৬২ বছর ধরে জেলার শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। এই কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। তবে সময়ের সঙ্গে শিক্ষার বিস্তার ঘটলেও আধুনিক অবকাঠামোর ছোঁয়া লাগেনি জেলার সবচেয়ে বড় এই সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, শেরপুর সরকারি কলেজে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স, মাস্টার্স ও ডিগ্রি কোর্সে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। শেরপুর জেলার পাঁচটি উপজেলার পাশাপাশি জামালপুরের বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ, কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর ও রৌমারী এবং ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি উপজেলার শিক্ষার্থীরাও এ কলেজে পড়াশোনা করেন।

শুধু প্রশাসনিক ভবনই নয়, কলেজের অফিস, শিক্ষক মিলনায়তন এবং একাধিক ক্লাসরুম এখনো টিনশেড ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কলেজটিতে এখনো নেই কোনো আধুনিক অডিটোরিয়াম, ছাত্র সংসদ ভবন কিংবা পর্যাপ্ত একাডেমিক অবকাঠামো।

সরেজমিনে দেখা যায়, টিনশেড ভবনে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষক মিলনায়তন ও শ্রেণিকক্ষও পরিচালিত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে অফিস ও ক্লাস কার্যক্রম ব্যাহত হয়। গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী আলিম বলেন, “গরমের সময় টিনশেড ক্লাসরুমে বসে ক্লাস করা খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। আবার বৃষ্টি হলে অনেক সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। একটি সরকারি কলেজে এমন পরিবেশে পড়াশোনা করা সত্যিই হতাশাজনক।”

শেরপুর সরকারি কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আরফান আলী বলেন, “জেলার সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও শেরপুর সরকারি কলেজের প্রশাসনিক ভবন, অফিস ও ক্লাসরুম এখনো টিনশেডে পরিচালিত হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। আধুনিক অবকাঠামোর অভাবে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী ও আধুনিক ভবন নির্মাণে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।”

কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আক্রাম হোছাইন বলেন, “কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই টিনশেড ভবনে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এটি শেরপুর জেলার একমাত্র সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অথচ জেলার অনেক এমপিওভুক্ত কলেজেও উন্নতমানের প্রশাসনিক ভবন রয়েছে। সরকারি কলেজ হয়েও আমাদের টিনশেড ভবনে অফিস, শিক্ষক মিলনায়তন ও ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি, যেন দ্রুত এই কলেজের সকল সমস্যা সমাধান করা হয়।”

শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুর রউফ বলেন, “কলেজে এখনো আধুনিক প্রশাসনিক ভবন, অডিটোরিয়াম, ছাত্র সংসদ ভবন ও ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন নেই। এসব সমস্যা সমাধানে আমরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জমা দিয়েছি। দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে শিক্ষার পরিবেশ ও মান আরও উন্নত হবে।”

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের দাবি, দীর্ঘ ৬২ বছরের ঐতিহ্যবাহী শেরপুর সরকারি কলেজে দ্রুত আধুনিক প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় জেলার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

সান্তাহারে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের র…
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল-পিএইচডিতে ভর্তি আবেদন শুরু
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুরের সময় হাতেনাতে পাবিপ্রবির সনাতনী শি…
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পে স্কেলে বাড়ছে বাড়ি ভাড়া ভাতা, কোন গ্রেডে কত?
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আবারও বাড়ছে কমদামি সিগারেটের মূল্য
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকৃত আসামি প্রবাসে, নামে মিল থাকায় ২০ দিন কারাভোগ করলেন …
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9