ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া অ্যাকাডেমি © সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া অ্যাকাডেমির হোস্টেলে থাকা অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসান নামের এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
নিহত মেহেদী হাসান সোনাপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও ফ্যামিলি ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী জিয়াউর রহমানের একমাত্র ছেলে। মেহেদী রামগঞ্জের ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া অ্যাকাডেমির হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলেজ হোস্টেল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে নামে স্থানীয়রা।
মেহেদীর স্বজনদের অভিযোগ, মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে বিদ্যালয়ের কয়েকজন সিনিয়র ছাত্র মেহেদীকে বেদম মারধর করে। ওই ঘটনার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। তবে এ অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে বিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আবার কেউ কেউ বলেছেন ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে চাটখিল সরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে কোনোটারই সঠিক ও নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান এবং রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী। তারা স্থানীয় জনসাধারণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জেরে প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কী কারণে ঘটনা ঘটেছে, সেটা বের করা হবে। হত্যা না স্বাভাবিক ঘটনা সেটা ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা যাবে না। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।