বাংলাদেশে বছরে ৩০ লাখ টন ই-বর্জ্য, টেকসই ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

৩০ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ PM
‘বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে’ শীর্ষক সংলাপ

‘বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে’ শীর্ষক সংলাপ © সংগৃহীত

বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ইলেকট্রনিক (ই) বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ পরিমাণ বেড়ে ৪৬ দশমিক ২ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে। তবে বর্তমানে উৎপন্ন ই-বর্জ্যের মাত্র ১০ শতাংশ আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত হচ্ছে। বাকি অংশ অনানুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থাপিত হওয়ায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ওয়াইডাব্লিউসিএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে’ শীর্ষক জাতীয় জনসংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অধিকারভিত্তিক সংগঠন ভয়েসের উদ্যোগে এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রগ্রেসিভ কমিউনিকেশনস (এপিসি)-এর সহায়তায় এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ভয়েসের উপ-পরিচালক মুশাররাত মাহেরা ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১’-এর কার্যকারিতা নিয়ে সংগঠনটির সাম্প্রতিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনের মূল বিষয় উপস্থাপন করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ, অঞ্চলভিত্তিক উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণের ফলে ভবিষ্যতে ই-বর্জ্যের পরিমাণ আরও বাড়বে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপদ পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা, গবেষণা জোরদার, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং সরকার, শিল্পখাত ও অনানুষ্ঠানিক খাতের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) মেডিকেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট পরামর্শক তরিত কান্তি বিশ্বাস বলেন, কেবল নীতিমালা বা সচেতনতামূলক কার্যক্রম দিয়ে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। কার্যকর অবকাঠামো, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং টেকসই অর্থায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জাতীয় সচেতনতার বিষয়। দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্যাম্পেইন ও কর্মশালার মাধ্যমে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে তারা দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তুলে টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখতে পারে।

জনসংলাপে নাগরিক উদ্যোগ, আরণ্যক ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ, বিভিন্ন রিসাইক্লিং কোম্পানি এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর ও টেকসই করতে সমন্বিত জাতীয় নীতির বাস্তবায়ন, শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক উদ্যোগ জোরদারের মাধ্যমে ই-বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

‘ছাত্রলীগ-যুবলীগের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’—বিএনপির মিছিল…
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যারাই জড়িত হোক, আইনের আওতায় আসবেন—সালমানের স্টুডিও ভাঙচুর ই…
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশে নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি পাঠাতে পারবে না কাতার
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৩ জনকে চাকরি দেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া পরিদপ্তর
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গ্যাসের বাজারে নজর, দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: জাহেদ উর রহমান
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আইডিকলে সহকারী ম্যানেজার পদে জনবল নিয়োগ
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬