বিটিএসের টানে বাড়ি ছাড়তে চেয়েছিল, পুলিশের হাতে যেভাবে উদ্ধার

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৬ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে পাবনা থেকে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে কুড়িগ্রামে পৌঁছেছিল একই বিদ্যালয়ের ৩  কিশোরী। কোরিয়ান জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের প্রতি মন্ত্রমুগ্ধতায় দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। তবে কুড়িগ্রামে গিয়ে অপরিচিত এলাকায় পথ হারিয়ে ফেলায় শেষ পর্যন্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে। তিন কিশোরীর মধ্যে একজন অষ্টম শ্রেণির এবং দুজন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা একই এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে দুজন পরস্পরের আত্মীয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন কিশোরীর একজন একপর্যায়ে বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার চিন্তা করে। অনলাইনে বিভিন্ন ভিডিও ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখার মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে সে সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা দুই সহপাঠীকে জানায়। তারাও ওই পরিকল্পনায় সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী রবিবার সকাল ১০টার দিকে তিনজন স্কুলে এসে একত্রিত হয়। তবে ক্লাসে না গিয়ে অটোরিকশায় পাবনা বাস টার্মিনালে যায়। সেখান থেকে বাসে নাটোর, পরে নাটোর থেকে রংপুর এবং রংপুর থেকে কুড়িগ্রামে পৌঁছায় তারা।

সন্ধ্যার আগে কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালে পৌঁছে রাত কাটানোর জন্য থাকার জায়গা খুঁজতে থাকে তিন কিশোরী। একপর্যায়ে তারা একটি অপরিচিত মহল্লায় ঢুকে পড়ে। সেখানে কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই তাজের স্ত্রী তাদের দেখতে পান। অপরিচিত তিন কিশোরীর কথাবার্তা ও চলাফেরায় সন্দেহ হলে তিনি তাদের নিজের বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেন। তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেন এবং বিশ্রামের সুযোগ দেন।

পরে তিনি বিষয়টি স্বামী এসআই তাজকে জানান। এরপর এসআই তাজ ও তার স্ত্রী কৌশলে তিন কিশোরীর কাছ থেকে তাদের পরিবারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের অবস্থান জানানো হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পুলিশকে অবহিত করা হয়।

এদিকে, তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে পাবনা সদর থানায় পৃথকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।

পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি করার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের একপর্যায়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার একজন এসআইয়ের মাধ্যমে তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে কুড়িগ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় তিন কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঘটনাটি শিশু-কিশোরদের মানসিক অবস্থা, পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ এবং অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কনটেন্টের প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।

ঢামেক ও মুগদা মেডিকেলের সাবেক অধ্যাপক ডা. আফরিনা বেগম মারা …
  • ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লিজেন্ডস লিগে সাকিবকে মিস করবেন নাসির
  • ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষকদের চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রীর …
  • ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্বামীর পূর্ণ সমর্থন, সংসার-সন্তান আর পড়াশোনা সামলে আফরিনা …
  • ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সেবার মান না বাড়ালে বাস কোম্পানির রুট পারমিট বাতিল: যোগাযোগ…
  • ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাধারণ সেবাগ্রহীতার বেশে ভূমি অফিসে ডিসি ফরিদা
  • ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬