অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ (মুরাদ) © সংগৃহীত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারের ও ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ (মুরাদ) কে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ভিসি পেল বিশ্ববিদ্যালয়টি।
রবিবার (৭ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে স্বাক্ষর করেছেন সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর-এর অনুমোদনক্রমে ড. মোহাম্মদ হানিফ (মুরাদ), অধ্যাপক, ফলিত গণিত বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-কে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখের ৩৭.০০.০০০০.০৭৬.১১.০০৬.২২/১৪১ নং প্রজ্ঞাপনের (ঙ) নং শর্তানুসারে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার পদ হতে অব্যাহতি প্রদান করে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর পদে শর্তসাপেক্ষে নিয়োগ প্রদান করা হলো।
নিয়োগের শর্তে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে ৪ বছর অথবা অবসরগ্রহণের তারিখ পর্যন্ত তার নিয়োগের মেয়াদ থাকবে। এ ছাড়া তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। তবে রাষ্ট্রপতি যে কোনো সময় তার নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে ৫৬ নং বিলের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। একই বছরের ২৬ অক্টোবর আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নবপ্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শিগগিরই পূর্ণমাত্রায় গতি পাবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য মুহাম্মদ হানিফ মুরাদের জীবন ও কর্মজীবন সম্পর্কে জানা গেছে, তিনি ১৯৭৪ সালের ১০ এপ্রিল নোয়াখালীর একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুমিল্লার ব্রাদার আন্দ্রে’স হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি (থিসিস গ্রুপ) ডিগ্রি অর্জন করেন, যেখানে উভয় পরীক্ষাতেই তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। অসাধারণ ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় তাকে পুরস্কৃত করে। পরে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত গণিতে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৬ সালে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তার গবেষণার ক্ষেত্র বিস্তৃত এবং তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে ২৭টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ গণিত সমিতির আজীবন সদস্য।