এমপি শিবলী সাদিক ও তার স্ত্রী © সংগৃহীত
সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের স্ত্রী খাদিজা মল্লিক সীমু ওরফে শিমলা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ৮টার দিকে তাকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসা আল আশারী জানিয়েছেন, 'রাত সোয়া ৮টায় তাকে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে আছেন। তার চিকিৎসা চলছে। তিনি স্ট্যাবল পর্যায়ে আছেন।'
শিমলা ফেসবুক পোস্টে বলেন, 'আমি যথেষ্ট স্ট্রং ছিলাম! আল্লাহর প্রতি আমার অনেক ভরসা রয়েছে! কিন্তু এই মুহূর্তে বিশ্রামের প্রয়োজন। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে আমার সঙ্গে হওয়া অন্যায় জুলুম আমি আর নিতে পারছি না। এই জীবন এভাবে চলতে পারে না। বিয়ের ২-৩ মাস পর থেকে এসব সহ্য করতে করতে আমি আজ ক্লান্ত, আমি শান্তিতে ঘুমাতে চাই।'
তিনি আরও লিখেছেন, 'আমি যদি হেরে যাই, আমার হয়ে তোমরা তো সব জানো সব প্রমাণ তোমাদের কাছেও আছে। তোমরা শিবলী সাদিককে ছেড়ো না, আমার সঙ্গে হওয়া অন্যায় আমি আর মানতে পারছি না। কেউ যদি আমাকে ভালো না বাসে আমি সেই ধরনের মেয়েই না যে তার কাছে ভালোবাসা ভিক্ষে চাইব, কিন্তু আমার ৭ বছরের চেষ্টাকে ওই ‘জানোয়ার শিবলী’ বলে ‘আমি মন থেকে করিনি বা যা করেছি এটা আমার দায়িত্ব।’'
মেয়ের জন্য দোয়া করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'স্নেহা তোমার জন্য আমার দোয়া মা, তুমি ভালো থেকো। তুমি আমার জন্য যথেষ্ট লড়েছো, আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ। আম্মু-আব্বু তোমরা আমাকে মাফ করে দিও। আমি আপনাদের অনেক ভালোবাসি। আমার এই মৃত্যুর জন্য শিবলী সাদিক তার ‘ঘনিষ্ঠ নারী’ ও শামীম দায়ী। আমার এই সিদ্ধান্ত একদম ভুল আমি জানি বাট উনাদের অনেক টাকা আছে এসব ধামাচাপা পরে যাবে।'
শিমলার পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি বিগত কিছুদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তার দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন চলছিল। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নিয়মিত ঘুমের ওষুধ সেবন করতেন। তবে আজ মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ সেবনের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
২০১১ সালে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমার সঙ্গে শিবলী সাদিকের বিয়ে হয়। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে ২০১৬ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরে ২০১৯ সালে তিনি সীমুর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। জুলাই অভ্যুত্থানের পরে শিবলী সাদিক আত্মগোপনে যান। এরপর থেকেই সীমু হাকিমপুর উপজেলার সিপি রোড এলাকায় বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
শিবলী সাদিক দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। তিনি দিনাজপুরের পর্যটন কেন্দ্র স্বপ্নপুরীর স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেনের ভাতিজা।