গোবিপ্রবি ছাত্রী দীপা দাস ও জাককানইবি ছাত্রী উম্মে হাবিবা রিজু © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা রিজুর মৃত্যু হয়েছে বাসার ছাদ থেকে পড়ে। আর গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) শিক্ষার্থী দীপা দাস দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি ‘আত্মহত্যা’ করতে পারেন বলে মনে করছেন সহপাঠীরা।
জানা গেছে, জাককানইবির রিজু ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তার একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। তার স্বামী মো. রাশিদুল ইসলাম একজন ভেটেরিনারি চিকিৎসক। ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. জিল্লুর রহমান পল বলেন, আমাদের শিক্ষার্থী রিজুর অকাল মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। তার পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন।
অপরদিকে ‘আত্মহত্যা’ করা দীপা দাস গোবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের ঘোনাপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেলে স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয় দীপার। পরে তিনি তার স্বামীকে একটি ঘরে আটকে রেখে পাশের ঘরে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন। পরবর্তীতে তার স্বামী বাড়ির দারোয়ানকে ডেকে ঘরের দরজা ভেঙে পাশের ঘরে গিয়ে দেখেন, তিনি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আছেন।
দীপা দাসের সহপাঠী বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জেরভাস বিশ্বাস বলেন, তার আত্মহত্যার বিষয়টি আমরা এখনো পুরোপুরি জানতে পারিনি। তবে দাম্পত্য কলহের জেরে ঝগড়ার পর গতকাল বিকেলে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানতে পেরেছি। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা খুবই শোকাহত।
আরেক সহপাঠী রিফাত ইসলাম বলেন, দীপা দাস ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক, মেধাবী এবং পড়াশোনায় অনেক ভালো। আমিও জানতে পেরেছি যে, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদের কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় আমরা এবং বাংলা পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, সহকারী অধ্যাপক ড. আহসান সৌরভ বলেন, আমি গতকাল বিষয়টি জেনেছি। দীপা তার স্বামী ও দুই বছরের মেয়েকে নিয়ে মোল্লারহাটে ভাড়া বাসায় থাকতেন। সেখানেই ঘটনাটি ঘটেছে। আমি তার স্বামী ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে, ঘটনাটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। তাদের মধ্যে সম্পর্ক ভালোই ছিল কেন এমন হলো, তারা বুঝতে পারছে না। তিনি আরও বলেন, এই ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, দীপা দাসের মৃত্যুর বিষয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এবং তার স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।