চুয়েটের নতুন ভিসি ড. শেখ শরীফুল
অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ও কুয়েট-চুয়েটের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। কুয়েটে গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি সংঘর্ষের সময় ছাত্রদের পাশে ছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
তবে ওই সময়ের ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের দাবি, তাকে ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। প্রশাসন পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে সোমাবার (২১ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে সংঘর্ষের সময় তার অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, “আমি হামলার সময়ে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। তাদের রক্ষা করতে একাধিকবার সংঘর্ষের মধ্যে গিয়ে নিজেও হামলার সম্মুখীন হয়েছিলাম। বহিরাগতদের নিবৃত্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম। এটা সকলেই জানে। তবে যেহেতু ছাত্রদের আন্দোলন ছিল প্রশাসনের বিরুদ্ধে, তাই প্রশাসনের অংশ হিসেবে আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। ইউজিসি কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ খুঁজে পায়নি।”
তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনে তৎকালীন ভিসি ও প্রো-ভিসিকে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা প্রটোকল বাস্তবায়নে ব্যর্থতা এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায়ভার দেওয়া হয়েছিল। ছাত্রদের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে না পারার কারণ জানতে চাইলে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কুয়েট সিন্ডিকেটের ৯৭তম জরুরি সভায় তাকে সব ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, ফলে ওই সময় প্রো-ভিসি হিসেবে তার কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা ছিল না। এরপরও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে মানবিক কারণে সংঘর্ষস্থলে গিয়েছিলেন। কোনো তদন্ত কমিটি আমার বিরুদ্ধে কোনো ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকার কোনো প্রমাণ পায়নি। শুধুমাত্র প্রশাসনকে রিপ্লেস করার অংশ হিসেবে আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এদিকে ইউজিসির তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তৎকালীন কুয়েটের ভিসি ও প্রো-ভিসির মধ্যে ‘মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব’ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে সংঘর্ষের সময় তৎকালীন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম সংঘর্ষস্থলে গিয়ে বহিরাগতদের হামলার শিকার হন। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজও পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ এপ্রিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ কামালকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিজ নিজ বিভাগে ফেরত পাঠানো হয়। তখন প্রশাসনিক রিপ্লেসের জন্য উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকেও কুয়েট থেকে অব্যাহতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এর আগে কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে ১৮ ফেব্রুয়ারি সংঘর্ষের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিও ওঠে। প্রায় দুই মাস ধরে এই আন্দোলন চলে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা অনশন কর্মসূচিও পালন করেন। পরবর্তী প্রশাসনিক রিপ্লেসে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য দুজনকেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে পরে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ কামালকে পুনরায় কুয়েটের উপাচার্য করা হয়েছে।