সংকট সমাধানে ৫ দফা দাবি বাংলাদেশ মাইনোরিটি ল’ইয়ার্স ইউনিটির

১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১৬ AM
বাংলাদেশ মাইনোরিটি ল’ইয়ার্স ইউনিটির মানববন্ধন

বাংলাদেশ মাইনোরিটি ল’ইয়ার্স ইউনিটির মানববন্ধন © টিডিসি ফটো

দেশে চলমান সহিংসতা ও অরাজকতা বন্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে ৫ দফা দাবি পেশ করেছে বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আইনজীবী সংগঠনের জোট ‘বাংলাদেশ মাইনোরিটি ল’ইয়ার্স ইউনিটি’। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে আইনজীবীরা এই দাবি জানান। সমাবেশে বক্তারা স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দেন যে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভোট বর্জনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।

সমাবেশে জোটের সদস্য সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় বলেন, 'দেশে যেভাবে একের পর এক হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছে, যার ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মনে ভীতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই অরাজকতার অবস্থার পরিবর্তন না হইলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভোট বর্জনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।'

সংকট উত্তরণে জোটের পক্ষ থেকে পেশ করা ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:

(১) সম্প্রতি সকল হত্যাকান্ডের ঘটনা জুডিসিয়াল তদন্ত পূর্বক প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী এবং হত্যাকান্ড ও সহিংসতার শিকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ  প্রদান।
(২) দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার কার্য পরিচালনা মাধ্যমে সকল অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান নিশ্চিত করণ।
(৩) বৈষম্য দূর করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যানুপাতিক হারে সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ইতিমধ্যে জোরপূর্বক চাকুরীচ্যুত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে পুনরায় চাকুরীতে পুনঃর্বহাল করণ।
(৪) ধর্মীয় অনুভূতির অযুহাতে বাড়ী-ঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তথা সকল মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধানকল্পে নির্বাচনের প্রার্থীর ভোট প্রচারণার দিন থেকে নির্বাচন পরবর্তী নূন্যতম ১০ দিন সেনাবাহিনী মোতায়েন।
(৫) বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ সকল কারাবন্দীর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবী জানায়।

সমাপনী বক্তব্যে জোটের আহ্বায়ক ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. জে.কে. পাল বলেন, 'দেশে আজ আইনের শাসন আছে বলে মনে হয় না, দেশে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, ধর্মীয় অজুহাতে বাড়ী-ঘর ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, জমি ও মন্দির দখল, জোরপূর্বক চাকুরীচ্যুত করণ, সকল ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতা ও বৈষম্য বৃদ্ধি পেলেও রাষ্ট্র নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। সরকার রাষ্ট্রের নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হচ্ছে যা খুবই হতাশাজনক।' সমস্যা সমাধানে তিনি প্রধান উপদেষ্টাসহ রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ড. জে.কে. পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, হিন্দু ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশে শান্তি বজায় রাখতে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

ফিতরা নির্ধারণে সভা আজ
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৩
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া তরুণীকে ৭ জন মিলে ধর্ষণ, গ্রেপ…
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জাতীয় শহীদ সেনা দিবস আজ
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিডিআর নামে ফিরছে বিজিবি
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মা প্রাণীরা কেন নিজেদের সন্তানকে একা ফেলে চলে যায়?
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ucbimage