গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাড়ির চাপ © টিডিসি
শিল্প-অধ্যুষিত গাজীপুর জেলায় ছোট-বড় প্রায় ৫ হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। প্রতি ঈদেই বেতন, বোনাসসহ নানা কারণে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ইতোমধ্যে ৯৫ শতাংশ শিল্পকারখানায় বকেয়া বেতন এবং ৯১ শতাংশ কারখানায় ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের ছুটিতে যাওয়ার আগেই বাকি কারখানাগুলোর বেতন ও বোনাসও পরিশোধ করা হবে।
এদিকে একসঙ্গে সব কারখানা ছুটি হলে তীব্র যানজটের আশঙ্কা থাকায় এবার গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাত দিনের সরকারি ছুটি মঙ্গলবার থেকে শুরু হলেও সোমবার বিকাল থেকেই অনেক শ্রমিক বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, ধাপে ধাপে ছুটির অংশ হিসেবে আজ ১০ শতাংশ কারখানা ছুটি পেয়েছে। আগামীকাল ২৫ শতাংশ, ১৮ তারিখে প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বাকি কারখানাগুলো ১৯ তারিখে ছুটি পাবে। সরকারি ছুটি সাত দিন হলেও পোশাক কারখানাগুলোতে ছুটি ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত হতে পারে।
কারখানা ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএভুক্ত মোট ২ হাজার ৮৩৪টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৭৫৩টি কারখানায় পূর্ণ ছুটি এবং ৮১টি কারখানায় আংশিক ছুটি দেওয়া হচ্ছে। ধারাবাহিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী সোমবার ৬২টি, মঙ্গলবার ৪৪৪টি, বুধবার ১ হাজার ৪১৪টি এবং বৃহস্পতিবার ৮৩৩টি কারখানা ছুটি পাবে।
নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি শওগাতুল আলম জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ও আশপাশের ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রায় ১ হাজার ৪০০ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
গাজীপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশের কমিশনার এস এম আশরাফুল আলম বলেন, যানজট নিরসনে তাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। মহাসড়কে পেট্রোল ও মোবাইল টিমের পাশাপাশি সাদা পোশাকে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ কালীগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ৮০০-এর বেশি জেলা পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন বলেন, অধিকাংশ কারখানায় ইতোমধ্যে বেতন-বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার ফলে এবারের ঈদে শ্রমিক অসন্তোষের কোনো আশঙ্কা নেই।