পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মেডিকেল ভর্তিচ্ছুদের চিঠি

১৬ মার্চ ২০২১, ০৬:৪২ PM
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা © ফাইল ফটো

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আমাদের দেশরত্ন, ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের ১ লাখ ২২ হাজার ৮৭৩ জন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার্থীরা আপনাকে সালাম জানাই। সঙ্গে শুভেচ্ছা নিরন্তর।

জনাব, আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার তারিখ পিছিয়ে ঈদের পর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়োজন করার দাবি জানিয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রায় সব কর্তাব্যক্তির ধারণা, যাদের এখনও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়নি, সেই গুটিকয়েক ২০-২৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষা পেছানোর এ দাবি তুলেছে।

কিন্তু, বাস্তবতা সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রথমত, বিভিন্ন গণমাধ্যমের জরিপে এটিই উঠে এসেছে যে, গুটিকয়েক নয়, বরং ৯০% মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার্থীই চায় যেন পরীক্ষাটা পিছিয়ে বাকি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সময়ে আয়োজন করা হয়। সে প্রমাণ সময় টিভির জরিপসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমেই উপস্থিত। আর দ্বিতীয়ত, আমাদের এ দাবির সঙ্গে পরীক্ষা-প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার সামান্যতম সম্পর্কও নেই।

তাহলে কেন আমরা এ দাবি তুলেছি, সে প্রশ্ন নিশ্চয়ই আপনার মনে জেগেছে। তাই নিম্নে আমাদের এ দাবি কেন উঠেছে আর এ দাবি কেন যৌক্তিক ও ন্যায্য, সে বিষয়ে তথ্য প্রমাণ ও যুক্তিসমূহ আপনার কাছে উপস্থাপন করছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
২ এপ্রিল, ২০২১ তারিখে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে যেসকল একাডেমিক জটিলতার সৃষ্টি হবে সেগুলো নিম্নে আপনার কাছে উপস্থাপন করছি-
১। আগামী ২ এপ্রিল, ২০২১ তারিখে এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে তার ৩-৪ দিনের মধ্যে প্রকাশিত হবে ফল এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু হবে ভর্তি কার্যক্রম। দেশের সকল সরকারি মেডিকেল কলেজসমূহের ভর্তি কার্যক্রম ফলপ্রকাশের ২০-২৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যায়।

কিন্তু, প্রকাশিত ফল অনুযায়ী মেডিকেল কলেজসমূহে ভর্তির সুযোগপ্রাপ্তদের মধ্যে কমপক্ষে এমন ৫০০ জন থাকেই যারা মেডিকেল কলেজে নয়, বরং অন্য কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়/প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চায়। অর্থাৎ তারা কেবল অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যেই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়, পড়ার উদ্দেশে নয়। এই ৫০০ জনের মাঝে গ্রামাঞ্চলের এমন অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও রয়েছে যার পরিবারের হয়তো 'নুন আনতে পান্তা ফুরোয়' অবস্থা কিন্তু সে মেধার জোরে দেশের সব শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পেয়ে যায়। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানসমূহে ভর্তি হওয়ার জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়, তা জোগাড় করার জন্য, তাকে অন্যের সাহায্য নিতে হয়, হাত পাততে হয়।

পূর্ববর্তী বছরসমূহে মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের ভর্তি পরীক্ষা কাছাকাছি সময়ে আয়োজিত হওয়ায় এমন অভাবী, কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের পক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ ছিল যে, সব প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পেলেও সে ঠিক কোনো প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি হবে?

কিন্তু, এ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে অন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখের মাঝে দুই মাসের সময় ব্যবধান থাকায় উপরে উল্লিখিত শিক্ষার্থীরা সহ বহুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এ প্রকট আর্থিক সমস্যায় পড়বে।

সেই শিক্ষার্থীরা যদি মেডিকেলে সুযোগ পেয়ে ২০-২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে সেখানে ভর্তি হয়ে যায়, তবে পরবর্তীতে দুই মাস পর সে যদি আবার নিজের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায়, তবে সে সেখানে পুনরায় ভর্তি হবার অর্থ কীভাবে ব্যবস্থা করবে ম্যাম? সেই ২০-২৫ হাজার টাকা তখন তো আর সেই অভাবি শিক্ষার্থীরা ফিরে পাবে না।
দিন এনে দিন খাওয়া পরিবারের সেই অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা কি তখন নিজেদের স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করবে শুধু এই অর্থাভাবের কারণে?

প্রশ্ন উঠতে পারে, মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার কী দরকার? দুই মাস পর নিজের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেই তো হয়!

এই তুমুল প্রতিযোগিতার বছরে যেখানে কিনা শুধু বিজ্ঞান বিভাগ থেকেই এবার লক্ষাধিক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, সেখানে কীভাবে একজন শিক্ষার্থী পড়ার সুযোগ পেয়েও ভর্তি না হয়ে থাকার ঝুঁকি নিতে পারে ম্যাম? পরবর্তীতে দুই মাস পর সে যে তার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবেই, তার বিন্দুমাত্র নিশ্চয়তা কি কেউ দিতে পারবে?
তাই, এ সমস্যার একমাত্র সমাধান, অন্য সকল ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাছাকাছি সময়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা যেন সব প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগপ্রাপ্ত কোনো দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে উপরে উল্লেখিত নিদারুণ সমস্যায় পড়তে না হয়, যেন সে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানকেই বেছে নিতে পারে তার উচ্চশিক্ষার জন্য, সকল প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য তাকে মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে না হয়।

২। এর পরই আসে বেসরকারি মেডিকেল কলেজসমূহে ভর্তি বিষয়ক জটিলতার কথা। ২রা এপ্রিল, ২০২১ পরীক্ষা আয়োজিত হলে তার তিন-চার দিনের মাঝে প্রকাশিত হবে ফল। এবং তার এক থেকে দেড় মাসের মাথায় সম্পন্ন হবে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজসমূহে ভর্তি কার্যক্রম। অনেক শিক্ষার্থীর অভিপ্রায় থাকে, যদি কোনো কারণে সরকারি মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করার সুযোগ না মেলে, তবে সে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদে পড়বে। আর যদি তারও সুযোগ না হয়, তবে সে ভর্তি হবে কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজে।

কিন্তু, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে এমন সময় বৈষম্যের কারণে এবার সকল বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে এমন এক সময়ে যখন কি-না দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরুই হবেনা। তবে, কীভাবে একজন শিক্ষার্থী সিদ্ধান্ত নেবে যে সে কি লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে আগেই কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে যাবে নাকি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ভর্তি পরীক্ষার জন্য দুই মাস অপেক্ষা করবে? আর যদি দুই মাস অপেক্ষা করার পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না মেলে, তখন যে তার কাছে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগও আর থাকবে না? তবে কি এভাবেই নিকষ কালো অন্ধকারে পতিত হবে তার স্বপ্ন, তার শিক্ষাজীবন?

৩। এরপর আসে মেডিকেল কলেজসমূহে ভর্তি হওয়ার পরবর্তী মাইগ্রেশন বিষয়ক জটিলতার কথা৷ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাকি ভর্তি পরীক্ষাগুলোর এত আগে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দুই মাস পর যখন অন্যান্য ভর্তি পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে, তখন সরকারি মেডিকেল কলেজসমূহের কমপক্ষে ৫০০ সিট পুনরায় ফাঁকা হয়ে যাবে৷ অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে সে বিপুল সংখ্যক সিটে পুনরায় ছাত্র ভর্তি নেয়া হবে। আগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি ২০-২৫ হাজার টাকাও তাদের আর ফিরিয়ে দেয়া হবে না। এত বিপুল সংখ্যক সিট পুনরায় ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় মেডিকেল কলেজসমূহের নতুন শিক্ষাবর্ষে ক্লাস শুরু হওয়ার পরেও চলতে থাকবে মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া। যতবার মাইগ্রেশন করবে, ততবার একজন শিক্ষার্থীকে পুনরায় ২০-২৫ হাজার টাকা দিয়েই ভর্তি হতে হবে। এটি যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কী পরিমাণ ভোগান্তিতে ফেলবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

যেহেতু বাকি সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দুই মাস পরে, সেহেতু প্রথম দফায় মেডিকেল কলেজ সমূহের সিট কোনোভাবেই ফাঁকা হবে না। ফলে, একজন শিক্ষার্থী মাইগ্রেশন করে সুবিধামতো জায়গায় মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে চাইলেও প্রথম দফায় তা সে পারবে না। তাই, তাকে বাধ্য হয়েই প্রথম ফলাফলে প্রাপ্ত মেডিকেল কলেজে গিয়েই ভর্তি হতে হবে, সেখানে থাকার বন্দোবস্ত করতে হবে প্রচুর অর্থব্যয় করে৷

কিন্তু, ঈদের পর মেডিকেল কলেজে ক্লাস শুরু হয়ে যাওয়ার পর যখন বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে, তখন মেডিকেল কলেজসমূহের সিট ফাঁকা হতে শুরু করবে। ফলে ক্লাস শুরু হয়ে যাওয়ার পর দুই থেকে তিন দফায় আবার মাইগ্রেশনের সুযোগ আসবে। আর মাইগ্রেশন ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়ে যাওয়ার পরেও দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে চষে বেড়াতে হবে। নতুনভাবে ভর্তি হতে হবে। নতুন মেডিকেল কলেজে গিয়ে প্রথম মেডিকেল কলেজে অংশ নেয়া পরীক্ষাগুলোতে পুনরায় অংশ নিতে হবে। পুনরায় নতুনভাবে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।

অথচ, পূর্ববর্তী বছরগুলোতে সকল বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করাতে মেডিকেল কলেজে ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই সিট ফাঁকা হয়ে যেত, অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি ও দুই থেকে তিন দফার মাইগ্রেশন সবই সম্পন্ন হয়ে যেত এবং একজন শিক্ষার্থী একটি মেডিকেল কলেজে স্থায়ীভাবে পড়াশোনা শুরু করতে পারতো। তাকে বারে বারে ক্লাস শুরু হয়ে যাওয়ার পরেও বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে গিয়ে নতুনভাবে ভর্তি হতে হতো না। সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ ও তাদের পরিবারের কাছে এ প্রক্রিয়াটি চরম ভোগান্তি নিয়ে আসতে চলেছে।

মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী, আমাদের বিশ্বাস, এই একাডেমিক জটিলতাগুলোর ব্যাপারে সদয় বিবেচনা করলেই আপনি বুঝবেন, আমাদের এ দাবি কেন যৌক্তিক আর কতটা যৌক্তিক। এরপরেই আসে ম্যাম করোনা সংক্রমণের প্রসঙ্গ। আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন, গত ৫ই মার্চ ২০২১ তারিখে MIST এর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে কিনা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো মাত্র ১০ হাজার।

তার ঠিক পরদিন থেকেই কিন্তু করোনা আক্রান্ত হার আবার বাড়তে শুরু করে। ৬ই মার্চ আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ৫৪০, ৭ই মার্চ ৬০৬। তার ঠিক ৭ দিনের মাথায় ১২ই মার্চে এসে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ১০৬৬ তে পৌঁছে।

৬ই মার্চ পর্যন্ত সংক্রমণ হার ছিলো ৪% এর নিচে৷ কিন্তু, ঠিক এক সপ্তাহ পর ১২ই মার্চে এসে তা হয়ে যায় ৬.৬২%। এবং ১৪ই মার্চ শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৭.১৫% এ।
মাত্র ১০ হাজার পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজিত ভর্তি পরীক্ষার পরদিন থেকেই এই অবস্থা হলে ১ লক্ষ ২২ হাজার পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজিত পরীক্ষার পর সংক্রমণ হার ঠিক কোন অবস্থায় পৌঁছবে, তা সহজেই অনুমেয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আমরা মেনে নিলাম, ২রা এপ্রিল পরীক্ষা আয়োজিত হলে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হবে। কিন্তু, পরীক্ষা কেন্দ্রের ফটকের বাইরের উপচে পড়া ভিড় কীভাবে সামাল দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হবে? সেখানে যদি কোনো লক্ষণ-উপসর্গবিহীন করোনা আক্রান্ত রোগী উপস্থিত থাকেন, তবে কীভাবে আবারও বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর মধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিকে উপেক্ষা করা যায়? কীভাবে এই একটি ভুলের জন্য দেশব্যাপী আবারও করোনা মহামারীর প্রকোপ শুরু হওয়ার আশংকাকে দূরে ঠেলে দেয়া যায়?

এমনকি, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার অধিকাংশ কেন্দ্রও একেকটি মেডিকেল কলেজে যা কিনা করোনা সংক্রমণের প্রবল ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। অথচ, করোনার পুনঃসংক্রমণের কথা মাথায় রেখে স্কুল কলেজে একটি শ্রেণির জন্য সপ্তাহে মাত্র এক দিন ক্লাস আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বাকি সকলের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে সরকার। তবে কেন শুধু লক্ষাধিক মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার্থী ও তাদের প্রায় তিন লক্ষ অভিভাবককে কেন্দ্র করে এমন ভয়ানক সিদ্ধান্ত নেয়া হলো? যদি এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা কেন্দ্রে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড়ে আমরা কোনোভাবে করোনা সংক্রমিত হই, তবে আমরা কীভাবে আর পরবর্তী ভর্তি পরীক্ষাগুলোর জন্য প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ পাবো? পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে থাকবেন আমাদের অভিভাবকবৃন্দ যাদের অধিকাংশের বয়সই পঞ্চাশোর্ধ। যদি এই একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে কোনোভাবে আমরা তাদের পৃথিবী থেকে হারিয়ে ফেলি, তবে তখন কেউ কি পারবে আমাদের বাবা-মাকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন এমন পরিস্থিতিতে আমাদের এই দাবিটা কতটা যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত৷ ম্যাম, তারপরেও ঠিক কত শতাংশ শিক্ষার্থী এ দাবিতে সমর্থন যুগিয়েছে, তার একটি প্রমাণও আপনার কাছে পেশ করছি। দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম সময় টেলিভিশন গত ৭ থেকে ৯ মার্চ এই বিষয়ে একটি জরিপের আয়োজন করে, যার মাধ্যমে উঠে আসে নিম্নোক্ত তথ্য- (এই প্যারার নিচে মেইলের সাথে এটাচকৃত ছবিটা সংযুক্ত করে দিতে অনুরোধ করছি)।

প্রিয় দেশনেত্রী
এমন বিরূপ পরিস্থিতিতে যখন কেউ আমাদের এ অসহায়ত্বের কথামালায় বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করছেন না, তখন আমাদের শেষ ভরসা একমাত্র আপনি। ১ লক্ষ ২২ হাজার ৮৭৩ জন পরীক্ষার্থীর অনুরোধ, আপনি এ ব্যাপারটিতে হস্তক্ষেপ করে ঈদের পর বাকি সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশ দান করে আমাদের বাধিত করবেন।

শ্রদ্ধাবনত চিত্তে-
২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার্থীরা
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

ট্যাগ: মেডিকেল
রুয়েটে স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে এআই টেক কার্নিভাল অনুষ্ঠিত
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬
আলোর মুখ দেখেনি তদন্ত প্রতিবেদন, বিএনপির এক নেতাসহ ছাত্রদলে…
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীতে শিক্ষিকাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬
বোরো মৌসুমে তেল সংকটে চরম ভোগান্তিতে কৃষকরা
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬
বছর আগে যার রিকশা ভাড়া ছিল না, পরের বছর সে ঢাকাতে ফ্ল্যাট ক…
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষক নিয়োগে মেধাবীদের বাদ পড়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা …
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬