কেন্দ্র ও ঢাবিতে অনুপ্রবেশ
ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাসুম বিল্লাহ্ © টিডিসি সম্পাদিত
ছাত্রদলে অনিয়ম ও অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিতে তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। রাকিবুল ইসলাম ও নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কমিটি ও গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও নাহিদুজ্জামান শিপন নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার কমিটি। তবে সেই তদন্ত কমিটি আলোর মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ করেছেন ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাসুম বিল্লাহ্। বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে এ নিয়ে জিজ্ঞাসার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ফেসবুকের দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।
পোস্টে মো. মাসুম বিল্লাহ্ লেখেন, ঢাবি ছাত্রদলের ২৪২ সদস্য বিশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির মধ্যে অনিয়ম/অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি জহির রায়হান আহমেদ এবং এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েলকে নিয়ে গঠিত ২ তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি।
‘‘একই ধারাবাহিকতায় ৫৯৩ সদস্য বিশিষ্ট হল কমিটিতে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণে ঢাবি ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাসুম বিল্লাহ্, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন শাওন, এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নূরে আলম ভুঁইয়া ইমনকে নিয়ে গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টটিও অজ্ঞাত কারণে প্রকাশিত হয়নি। বরং তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতিপ্রাপ্ত একাধিক সদস্যকে পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে তদন্ত কমিটির সদস্যের না জানিয়েই।’’
তিনি লেখেন, এই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশের জন্য আমি ঢাবি ছাত্রদলের একজন দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অবস্থানে থেকেও অদ্যাবধি জানবাজ কর্মীর ন্যায় সোচ্চার আছি। এজন্য আমাকে নিয়ে একাধিক ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়েছে, যার রেশ এখনো কাটেনি, এখনও চলছে কৌশলী কলমের খোঁচা এবং অসহযোগিতা-অবজ্ঞা। এই রিপোর্ট প্রকাশ নিয়ে ডাকসু নির্বাচনে হারের পরে একটি মিটিংয়ের শুরুতে অপ্রাসঙ্গিকভাবে কথা বলায় এবং আরও বিভিন্ন বিষয়ে মতপ্রকাশ করতে না পেরে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের সাথে উচ্চস্বরে কথা বলায় আমাকে শোকজ করা হয়েছিল।
‘‘এরপর একরকম আড়ালেই চলে গিয়েছিলাম আমি, ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও আমি আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ব্যানারে দায়িত্বরত অবস্থায় এটি আমার ষষ্ঠ কমিটি, আমি নিজেকে কর্মী বলে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি সবসময়, বিশেষকরে দেশের জন্য শহীদ বীর শাওনের স্মৃতি বিজড়িত উক্তি— ‘কর্মীর চেয়ে বড় কোনো পদ নাই, সাক্ষী দেহের ঘামে ভেজা রাজপথ’ আমাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে, তাই এখনো নিজেকে কর্মী হিসেবেই পরিচয় দিই।’’
ছাত্রদলের এই নেতার প্রত্যাশার কথা জানিয়ে লেখেন, ২৪২ সদস্য বিশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি ও ৫৯৩ সদস্য বিশিষ্ট হল কমিটিতে অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিতে গঠিত তদন্ত রিপোর্ট কেন প্রকাশিত হয়নি— সেজন্য বর্তমান কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনসহ সুপার ফাইভের সকল নেতৃত্ব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ সুপার সেভেনের সকল নেতৃত্ব (যার মধ্যে আমি নিজেও রয়েছি) এবং ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলকে বিএনপির পক্ষ হতে জিজ্ঞাসা করা হোক।
‘যদি এর কোনো সুষ্ঠু সমাধান না হয়, তাহলে আমি ধরে নেবো’ উল্লেখ করে ঢাবি ছাত্রদলের এই নেতা লেখেন, গণমানুষের ভালোবাসার দল বিএনপি তার জনপ্রিয় ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে ইচ্ছুক নয়; তদন্ত কমিটি মূলত একপ্রকার আইওয়াশ; এ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে, জোর দিতে গিয়ে আমার যে রাজনৈতিক, স্বাস্থ্যগত ও মানসিক ক্ষতি হয়েছে এবং আমি ও আমার পুরো পরিবারের যে সামাজিক সম্মান বিনষ্ট হয়েছে, আমি যে অসুস্থতা ও অনবরত বুলিংয়ের শিকার হয়েছি তা শুধু শুধুই হয়েছি; আমি মনে করি ছাত্ররাজনীতির পটপরিবর্তন, আগামীর কমিটিতে সম্ভাব্য নেতৃত্ব ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাববার আগে সংগঠনের যাঁরা জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও পঙ্গু হয়েছে তাদের আত্মত্যাগ নিয়ে নিঃস্বার্থভাবে ভাবতে হবে।
শেষে মো. মাসুম বিল্লাহ্ লেখেন, শোডাউন দিয়ে গোডাউন ভরানো কমিটি চাই না।