পরীক্ষার্থী © ফাইল ফটো
আগামী ২ এপ্রিলই ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার তারিখ পেছানোর সুযোগ নেই। পরীক্ষার মানবন্টন থেকে শুরু করে সবকিছু আগের নিয়মেই হবে। পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হবে।
মঙ্গলবার (৯ মার্চ) রাতে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের সাথে আলাপকালে এসব কথা জানান মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (স্বাস্থ্য শিক্ষা) ডা এ কে এম আহসান হাবীব এসব কথা বলেন।
ভর্তিচ্ছুদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার (৯ মার্চ) ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা হয়েছে। তবে পরীক্ষা পেছানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। ফলে যথা সময়েই পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে মত দিয়েছেন সবাই। তাই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখারও একটা বিষয় আছে। তাই কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পূর্বে ৪৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের কথা থাকলেও এবার সেটি বাড়িয়ে ৫৪টি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ মার্চ) বিকেল ৩টায় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মন্ত্রণালয় মো. আলী নূরের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন- ভর্তি পরীক্ষার আয়োজক কমিটির সভাপতি ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এ বি এম মাকসুদুল আলম, কমিটির সদস্য সচিব ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. এ কে এম আহসান হাবীব।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। তাদের বক্তব্য, করোনাভাইরাসের কারণে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিবিষয়ক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। তাহলে মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা কেন পেছানো হবে না?
এরপর সোমবার (৮ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও অনশন করে শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে তারা বলেন, করোনার সংক্রমণের কথা বিবেচনা করে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ মেডিকেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা পেছানো হচ্ছে না। এটি এক ধরনের বৈষম্য। আমরা এই বৈষম্য মানি না।
২ এপ্রিল মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে বেশ কিছু সমস্যার সৃষ্টি হবে বলেও দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক মিলিয়ে প্রায় চার লাখ মানুষের সমাগম হবে। ফলে অনেকেই করোনায় সংক্রমিত হবেন। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর অনেকেই বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি ও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা দেন। তবে এবার সে সুযোগ থেকে অনেকেই বঞ্চিত হবেন। তাই দ্রুত পরীক্ষার তারিখ পেছানোর দাবি জানান তারা।