রাহুল গান্ধী ও মোদি © সংগৃহীত
চলমান প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাই ভারতের ভবিষ্যৎ, আর নরেন্দ্র মোদি দেশের অতীত। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের দাবিকে ‘আপসহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
শনিবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘শিক্ষার্থীদের তিনটি দাবিই আপসহীন। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবশ্যই অপসারণ করতে হবে।’
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দমন করতে সরকারি যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে তিনি আন্দোলনকারীদের দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান।
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘এটাই সেই ব্যবস্থা, যা তাদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। আমি ভেতরে গিয়ে তাদের বলেছি, কোনো দুশ্চিন্তা কোরো না। ভারতের পুরো সরকার, সরকারের প্রত্যেক মানুষ একসঙ্গে চেষ্টা করলেও তোমাদের সেখান থেকে সরাতে পারবে না। তারা যা খুশি করুক। থামানোর চেষ্টা করুক, ভয় দেখানোর চেষ্টা করুক। আমরা এক পা-ও পিছিয়ে যাব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারাই ভারতের ভবিষ্যৎ। আর ভবিষ্যতের সঙ্গে কেউ লড়াই করতে পারে না। নরেন্দ্র মোদি ভারতের অতীত। অতীত কখনো ভবিষ্যতের সঙ্গে লড়াই করতে পারে না।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানান কংগ্রেস নেতা। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদ থেকে সরানোর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত এই পুরো ব্যবস্থার দায়িত্বে যিনি আছেন, অর্থাৎ ভারতের প্রধানমন্ত্রী—যিনি রাত জেগে ভিডিও বানান এবং গতকাল বলেছিলেন, ‘খুব ভালো কিছু পরামর্শ পাওয়া গেছে’—তার বুঝতে হবে, এটি কোনো পরামর্শের বিষয় নয়। এখানে দাবি একটাই, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই পুরো ব্যবস্থার প্রধান ব্যক্তিকে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ তাদের মারধর করা হয়েছে, হামলার শিকার হতে হয়েছে এবং অসম্মান করা হয়েছে।’
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন ভেঙে দেওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
তিনি বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। সোনম স্যার অনশন ভেঙেছেন, এতে আমরা খুবই খুশি এবং স্বস্তি পেয়েছি। তিনি টানা ২৬ দিনের বেশি সময় অনশনে ছিলেন। এই দেশের জন্য তার জীবন অত্যন্ত মূল্যবান।’
কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়েও দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন অভিজিৎ দিপকে। তিনি বলেন, যেকোনো আলোচনা নিরপেক্ষ স্থানে হতে হবে এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি কোনোভাবেই আলোচনার বিষয় নয়।
দিপকের এই বক্তব্য আসে সোনম ওয়াংচুকের সেই প্রতিক্রিয়ার পর, যেখানে তিনি ২৬ দিনের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার জবাব দেন। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি এই অনশন কর্মসূচি পালন করেছিলেন।