নোবেল বিজয়ীদের সোনালি ছবিগুলো নিজ হাতে আঁকেন যিনি

০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৯ PM
নোবেলজয়ীদের ছবি নিজ হাতে আঁকেন নিকলাস এলমেহেড

নোবেলজয়ীদের ছবি নিজ হাতে আঁকেন নিকলাস এলমেহেড © সংগৃহীত

প্রতি বছর নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে ওঠে বিজয়ীদের বিশেষ ধরনের সোনালি প্রতিকৃতি। ছবিগুলো এতটাই পরিচিত যে নোবেলজয়ীদের ঘোষণার সঙ্গে অনেকের কাছেই এগুলো এখন অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এসব প্রতিকৃতি তৈরি করেন কে? তিনি সুইডেনের শিল্পী নিকলাস এলমেহেড। ২০১২ সাল থেকে প্রতি বছর নোবেলজয়ীদের আনুষ্ঠানিক প্রতিকৃতি আঁকার দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। 

প্রতি অক্টোবর নোবেল পুরস্কার কমিটি নতুন বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। আর ঘোষণার পর বিজয়ীদের যে প্রথম আনুষ্ঠানিক ছবিটি বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমে ব্যবহৃত হয়, সেটি তৈরি করেন এলমেহেড। ফলে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা হওয়ার আগেই বিজয়ীদের পরিচয় জানার সুযোগ পাওয়া বিশেষ একদল মানুষের মধ্যে তিনিও রয়েছেন। যদিও তিনি নোবেল পুরস্কারের বিচারক প্যানেলের সদস্য নন।

২০১২ সালের আগে নোবেলজয়ীদের ছবি হিসেবে ইন্টারনেটে পাওয়া বিভিন্ন নিম্নমানের ছবি ব্যবহার করা হতো। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের অনেক বিজয়ীর ভালো মানের ছবি খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে থাকা কর্মীদের তালিকা থেকে কম রেজুলেশনের ছবি সংগ্রহ করতে হতো।

সুইডেনভিত্তিক এই শিল্পী জানান, প্রয়োজন থেকেই নোবেলজয়ীদের ঘোষণায় ছবির বদলে আঁকা প্রতিকৃতি ব্যবহারের ধারণা আসে। দুই বছর আগে ‘পপুলার সায়েন্স’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘অনেক বিজ্ঞানীর ছবি পাওয়া বেশ কঠিন। আপনি যদি কোনো ছবি খুঁজতে যান, বিশ্বের কোথাও কোনো ওয়েবপেজে থাকা খুব কম রেজুলেশনের ছবি পাওয়া যায়। তাদের মুখ হয়তো কর্মীদের তালিকার পাতায় থাকে, যা খারাপ ক্যামেরায় তোলা।’

২০১২ সালে নোবেল মিডিয়ার আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ পান এলমেহেড। ওই বছর নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময়কার সব ধরনের ভিজ্যুয়াল কনটেন্টের দায়িত্বও দেওয়া হয় তাকে। তবে তার আঁকা প্রতিকৃতিগুলো আলাদা পরিচিতি পায় ২০১৭ সালে। ওই বছর নোবেল পুরস্কারের ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। ঘোষণার মূল রং হিসেবে সোনালি রং নির্ধারণ করা হলে এলমেহেড প্রতিকৃতিতে সোনালি পাত বা ‘গোল্ড ফয়েল’ ব্যবহারের ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেন।

এলমেহেড বলেন, ‘আমি বিভিন্ন ধরনের সোনালি রং নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। পরে গোল্ড ফয়েলের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি। এটি অত্যন্ত পাতলা ধাতব পাত, যা বিশেষ ধরনের আঠার সাহায্যে ছবির ওপর বসানো যায়। কালো রেখা, সাদা পটভূমি ও গোল্ড ফয়েল ব্যবহার করে আমার মনে হয়েছে প্রতিকৃতিগুলো খুব শক্তিশালী ও বিশেষ ধরনের আবহ তৈরি করে।’

তার তৈরি প্রতিকৃতিতে সাধারণত সাদা পটভূমির ওপর কালো রেখায় মুখাবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয় সোনালি পাতের ব্যবহার। এ ধরনের নকশাই এখন নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সঙ্গে বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি ভিজ্যুয়াল পরিচয় হয়ে উঠেছে। নোবেলজয়ীদের নাম তিনি ঠিক কত আগে জানতে পারেন, তা প্রকাশ করার অনুমতি নেই। তবে একটি প্রতিকৃতি তৈরিতে খুব বেশি সময় লাগে না বলে জানিয়েছেন এলমেহেড। তার ভাষায়, তিনি বেশ দ্রুত কাজ করেন এবং একটি প্রতিকৃতি চূড়ান্ত করতে ‘কয়েক ঘণ্টা’ সময় লাগে।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদা দলের কমিটি গঠন, নেতৃত্বে হাফ…
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
এইচএসসিতে ১২২২ নম্বর পেয়ে চট্টগ্রাম বোর্ডে প্রথম তামযীদ
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
কলেজের সভাপতি হতে আর মাস্টার্স পাস লাগবে না, কমল যোগ্যতা
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
এআইয়ের যুগে মিডিয়া লিটারেসি: তথ্যের সাগরে সত্য চেনার লড়াই
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
বাদাম বিক্রি ছেড়ে স্কুলে যাবে ৮ বছরের হাসান, পাশে দাঁড়ালেন …
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬
মাথায় বুলেট নিয়েই ২ বছর পর চলে গেলেন আবু সাঈদের সহযোদ্ধা চন…
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬