অনশনরত সোনাম ওয়াংচুক © সংগৃহীত
মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET) কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে টানা ২৭ দিন ধরে অনশনে অনড় পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছেন। দীর্ঘ অনশনে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটায় বর্তমানে মেডান্তা হাসপাতালের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন থাকলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি।
বুধবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং মেডান্তা হাসপাতালে গিয়ে ওয়াংচুকের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। এই বৈঠকের পর বুধবার বিকেলে দুই মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন চিঠিতে অনশন ভাঙার ব্যাপারে নিজের অবস্থান ও শর্তাবলি স্পষ্ট করে ওয়াংচুক লিখেছেন, ‘আমি মরতে চাই না। আমি বাঁচতে চাই এবং আবার আমার ছাত্রদের কাছে ফিরতে চাই। তবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমি অনশন ভাঙতে পারি না।’
অনশন ভাঙার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কয়েকটি সুস্পষ্ট দাবি তুলে ধরেছেন তিনি। ওয়াংচুক জানান, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো ছাত্র-যুবকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি, শাস্তিমূলক বা প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ না নেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে সম্মান জানানোর বিষয়ে কেন্দ্র থেকে লিখিত ও স্পষ্ট আশ্বাস মিললেই কেবল তিনি অনশন প্রত্যাহারের কথা বিবেচনা করবেন।
এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার পথ সুগম হয়েছে। ওয়াংচুকের মতে, আলোচনার একাধিক বিষয়ে সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। কিছু সূত্রে দাবি করা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিটি সরকারের ভেতরে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে আন্দোলনকারী দল ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) পক্ষ থেকে সোনম ওয়াংচুকের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় তাঁকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সিজেপির স্পষ্ট বার্তা, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য রক্ষা এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি এবং তিনি অনশন তুলে নিলেও শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।