দেশে দেশে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় কড়াকড়ি

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪২ PM
 বিদেশে উচ্চশিক্ষা

বিদেশে উচ্চশিক্ষা © টিডিসি ছবি

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা পাওয়া আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠছে। যুক্তরাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন নেওয়া স্থগিত করেছে। অস্ট্রেলিয়া ভিসা বদল করে দেশটিতে অবস্থান দীর্ঘ করার সুযোগ সীমিত করছে এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য নেওয়ার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করছে। যুক্তরাষ্ট্র এফ, এম ও জে শ্রেণির ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড যাচাই করছে। একই সঙ্গে ভুয়া কাগজপত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্টে অসংগতি ও অন্যান্য অনিয়মের ক্ষেত্রেও দূতাবাসগুলো কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে বিদেশি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেই ভিসা পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা আর থাকছে না। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, পছন্দের কোর্সের যৌক্তিকতা, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ, একাডেমিক ইতিহাস, ভিসার শর্ত এবং পড়াশোনা শেষে কী করার পরিকল্পনা রয়েছে—এসব বিষয় এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপে যেতে আগ্রহী একাধিক শিক্ষার্থী মনে করছেন, কিছু এজেন্সি ও শিক্ষার্থীর অনিয়মের কারণে তাদেরও বাড়তি জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাদের মতে, আগের তুলনায় ভিসা প্রক্রিয়ার প্রায় প্রতিটি ধাপেই কড়াকড়ি বেড়েছে।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কড়াকড়ির বড় একটি চিত্র দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায়। নিজেদের স্পন্সর লাইসেন্স রক্ষা করতে দেশটির বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ এবং ‘কনফারমেশন অব অ্যাকসেপ্ট্যান্স ফর স্টাডিজ’ (সিএএস) দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় পুরো বাংলাদেশ থেকেই আবেদন নেওয়া স্থগিত করেছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট অঞ্চল, কোর্স বা ডিগ্রির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা দিয়েছে।

শুধু দেশভিত্তিক নয়, যুক্তরাজ্যে অঞ্চলভিত্তিকও কড়াকড়ি করা হয়েছে। সিলেটের শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভর্তি বন্ধ করেছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলস, অ্যাবারিস্টউইথ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার, ক্যান্টারবেরি ক্রাইস্ট চার্চ ইউনিভার্সিটি, রিজেন্ট কলেজ লন্ডন ও ইউনিভার্সিটি অব ব্রাইটন। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আবার ঢাকা ও সিলেটের শিক্ষার্থীদের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে আবেদন বন্ধ করেছে।

কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ না করে নির্দিষ্ট কোর্সে বিধিনিষেধ দিয়েছে। বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটি ও বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট এবং মাস্টার্স কোর্সে আবেদন স্থগিত করেছে। ইউনিভার্সিটি অব ডার্বি ও ইউনিভার্সিটি অব গ্রেটার ম্যানচেস্টার মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়েও ভর্তি বন্ধ রেখেছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে ভিসা-কমপ্লায়েন্স ঝুঁকি কড়াকড়ির অন্যতম কারণ। সংশোধিত ‘বেসিক কমপ্লায়েন্স অ্যাসেসমেন্ট’ কাঠামো অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশ বা তার বেশি হলে স্পন্সর লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকি তৈরি হয়। আগে এই সীমা ছিল ১০ শতাংশ। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার প্রায় ২২ শতাংশ। ফলে নিজেদের স্পন্সর লাইসেন্স রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করে ঝুঁকি কমাতে চাইছে।

এ ছাড়া আর্থিক নথির অসংগতি, ভিসা বা ক্রেডিবিলিটি ইন্টারভিউতে ব্যর্থতা এবং যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর আশ্রয়ের আবেদনসহ বিভিন্ন বিষয়ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সিদ্ধান্তে বিবেচনায় আসছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়াতেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ব্যবস্থায় কড়াকড়ি বেড়েছে। দেশটির মূল লক্ষ্য বৃহত্তর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নিট বিদেশি অভিবাসন দুই লাখ ৪৫ হাজার এবং পরের অর্থবছরে দুই লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

নতুন ব্যবস্থায় ‘ভিসা হপিং’ বন্ধে কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ উচ্চশিক্ষা শেষ করে তুলনামূলক নিম্নমানের কোর্সে ভর্তি হয়ে বা বারবার ভিসার ধরন পরিবর্তন করে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান দীর্ঘ করার সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরিবারের সদস্য আনার সুযোগও নতুন করে সীমিত করা হয়েছে। তবে পিএইচডি শিক্ষার্থীসহ কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আবার কড়াকড়ির ধরন কিছুটা ভিন্ন। দেশটি এফ, এম ও জে শ্রেণির ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড যাচাই করছে। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, একাডেমিক যোগ্যতা ও অর্থের উৎসের পাশাপাশি অনলাইন উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময়সীমা নিয়েও নতুন নিয়ম আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে জার্মানি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও শিক্ষার্থীরা নিয়মিত থাকার ক্ষেত্রে নানা সমস্যায় পড়ছেন বলে জানা গেছে।

ইউরোপীয় কমিশনের ইরাসমাস প্লাস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্টস কর্মসূচির এশিয়া অঞ্চলের ব্যবস্থাপক এবং ইরাসমাস মুন্ডুস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ড. মো. আশিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক কড়াকড়িকে শুধু বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। মূলত অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষার্থী ভিসার অপব্যবহার রোধ, ভুয়া বা নিম্নমানের আবেদন যাচাই এবং বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে দেশগুলো নিয়ম কঠোর করছে।

ড. আশিকুর রহমান বলেন, শিক্ষা শেষে থাকার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। তবে তা আগের তুলনায় সীমিত ও প্রতিযোগিতামূলক হচ্ছে। শুধু বিদেশে পড়তে গেলেই স্থায়ীভাবে থাকা যাবে—এমন ধারণা এখন বাস্তবসম্মত নয়।

তাঁর মতে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষা বা বৈধ অভিবাসনের পথ বন্ধ হয়নি। তবে দুর্বল প্রস্তুতি এবং শুধু মাইগ্রেশনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এখন বিদেশে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত হতে হবে তথ্যভিত্তিক, দক্ষতাকেন্দ্রিক এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এদিকে দূতাবাসগুলোও বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশিদের ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের বিষয়ে বারবার সতর্ক করে আসছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ ভুয়া কাগজপত্র রোধে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তুহিনকে নিয়ে ফাহাদই প্রথম তথ্য দেয় অপ্রতিমের বাবাকে, সহযোগি…
  • ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একাদশে ২য় ধাপের ভর্তিতে আবেদন করতে পারবেন তিন ধরনের শিক্ষা…
  • ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একাদশে ভর্তির ২য় ধাপে আবেদনের তারিখ ঘোষণা
  • ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ দল নিয়ে ‘একের ভেতর তিন’ টুর্নামেন্টের ঘোষণা বিসিবির
  • ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‎তারা ভাঙে, আমরা গড়ি—জসীম উদ্‌দীন হলের গেট উদ্বোধনে ডাকসু ভ…
  • ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চ্যাটজিপিটি দিয়ে পরীক্ষা ও আইআইটি শিক্ষার্থীর মৃত্যু, ক্ষমা…
  • ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬