শিক্ষার্থীর আন্দোলনে দিল্লী পুলিশের হামলা © সংগৃহীত
ভারতের জাতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET) কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা ‘সংসদ অভিযান’ কর্মসূচি কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও পদদলিত হওয়ার ঘটনায় গুরুতর আহত এক ২২ বছর বয়সী তরুণীর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটায় তাঁকে রাজধানীর রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তরুণীকে ভেন্টিলেটর সহায়তায় রাখা হয়েছে এবং তাঁর ঘাড়ে ও মাথায় একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে।
সামাজিক মাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা গেছে, যন্তর মন্তরের অবস্থান মঞ্চের অদূরে শ্রমশক্তি ভবনের কাছে বিক্ষোভকারীদের জমায়েতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের সেল ছুড়লে বিশৃঙ্খলা ও দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। এ সময় ওই তরুণী ব্যারিকেডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান এবং পদদলিত হয়ে মাথায় ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত পান।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, কর্মসূচির অনুমতি না থাকলেও সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির প্রায় ২০ হাজার ছাত্র-যুব সদস্য হাতে জাতীয় পতাকা ও সংবিধান নিয়ে যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হন। বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান ও সংসদ চত্বর সুরক্ষিত রাখতে পুলিশ একাধিক ব্যারিকেড দিয়ে পথ রোধ করে। তবে আন্দোলনকারীরা পুলিশি বাধা ঠেলে সংসদ ভবনের মূল ফটকের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করে।
পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতের ঘটনায় ৮০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী আহত হন। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের পর মঙ্গলবার সকালের দিকে হাসপাতালে ভর্তি থাকা আহত অন্তত ৭৯ জন ছাত্র-যুবকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আইসিইউতে থাকা তরুণীসহ আরও কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সংঘর্ষের মুখে পড়ে অন্তত ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীও আহত হয়েছেন।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্ব পদত্যাগ ও নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিচার চেয়ে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনের সমর্থনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা মঙ্গলবার হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নেন। তবে সিজেপির পক্ষ থেকে এটিকে স্রেফ লোক দেখানো মন্তব্য করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।