ককরোচ আন্দোলন
ককরোচদের আন্দোলনে সরব বলিউড অভিনেতা-অভিনেত্রীদের একাংশ © সংগৃহীত
ভারতের কেন্দ্রীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা নীট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির দীর্ঘ আন্দোলন, পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের অনশন এবং ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযান-এ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কঠোর অ্যাকশন ঘিরে উত্তাল ভারত। ঘটনার ভয়াবহতায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিনোদনজগতের একাংশ রাজপথে ও সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানালেও, বলিউডের শীর্ষ সারির মেগাস্টারদের তিন খানদের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে নেটদুনিয়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবল সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে বলিউডের প্রভাবশালী ‘খান’ পরিবার, ‘কপূর’ পরিবার, অক্ষয় কুমার ও অজয় দেবগনের মতো মেগাস্টাররা এই ইস্যুতে একদম চুপ রয়েছেন। শাহরুখ খান, সালমান খান এবং সদ্য বিবাহিত আমির খান—যাদের বার্তা কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছায়—তারা এই বিষয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। একইভাবে রণবীর কপূর ও আলিয়া ভাটের মতো প্রভাবশালী কপূর দম্পতি, জাতীয়তাবাদী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য খ্যাত অক্ষয় কুমার এবং অজয় দেবগনও সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছেন।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের চরম মুহূর্তে তাঁদের এমন ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভক্ত ও আন্দোলনকারীরা। এ ছাড়া ‘রহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ খ্যাত আর মাধবন ও আমির খানের মতো তারকার নিকটজনেরা যখন মুখ খুলছেন, তখনও আমির নিজে বা অন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা কেন নিরব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। কৌতুকশিল্পী বীর দাসসহ অনেক তারকা স্পষ্টই বলেছেন যে, তরুণদের জীবনের এমন একটি সংকটকালে নীরব থাকা মানে প্রত্যক্ষভাবে অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো।
অন্যদিকে, বলিউডের প্রথম সারির এই অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নীরবতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে মুখ খুলেছেন একঝাঁক সংস্কৃতি কর্মী ও অভিনয়শিল্পী। হৃতিক রোশন তার শিক্ষক চরিত্রের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে শিক্ষার্থীদের গভীর আতঙ্কের কথা তুলে ধরেছেন। ‘গরিবের মসিহা’ খ্যাত সোনু সুদ পুলিশি হামলার তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লাঠি নয়, ভালোবাসার আলিঙ্গন প্রয়োজন।
দীয়া মির্জ়া, সোহা আলী খান, অদিতি রাও হায়দরী ও প্রীতি জিন্তা তরুণদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করে সরকারকে দ্রুত সোনম ওয়াংচুক ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার দাবি জানিয়েছেন। ইমরান খান আবেগঘন পোস্টে পুলিশি টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানতে চেয়েছেন এই শিক্ষার্থীরা দেশমাতার সন্তান কি না। সোনাক্ষী সিন্হা ২০ জুলাইয়ের দিনটিকে ‘পুরো দেশের মন ভাঙার দিন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পাশাপাশি শুরু থেকেই মাঠে থেকে প্রত্যক্ষ সমর্থন জুগিয়েছেন প্রকাশ রাজ, শবানা আজ়মী, নসীরুদ্দীন শাহ, বিবান শাহ এবং স্বরা ভাস্করের মতো শিল্পীরা। তাঁরা সরাসরি যন্তর মন্তরে পৌঁছে অনশনরত সোনম ওয়াংচুক ও সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংহতি প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া রিতেশ দেশমুখ, জেনেলিয়া দেশমুখ, রিচা চড্ঢা, বীর দাস, অনুরাগ কশ্যপ, বিশাল দদলানী, শিল্পা রাও এবং মধুবন্তী বাগচীর মতো তারকারাও তরুণ প্রজন্মের পাশে দাঁড়িয়ে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।