ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় যোগ দিবেন জাতীঅয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম © সংগৃহীত
ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান (জমহুরি-ই ইসলামী ইরান) ও রিপাবলিক অব ইরাক (আল জামায়া আল ইরাকিয়া); এই দুই দেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নামাজে জানাজা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
এদিকে, ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহিল সাইয়্যিদ আলী হুসাইনি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং জামায়াতে ইসলামীর একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল।
আগামী ৩ ও ৪ জুলাই ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হবে খামেনির মূল জানাজা এবং রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান। এরপর ৫ জুলাই শিয়াদের অন্যতম পবিত্র শিক্ষানগরী ‘কোমে’ ঐতিহাসিক শোকমিছিল হবে। ৭ জুলাই খামেনির মরদেহ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাকে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে শিয়া সম্প্রদায়ের অত্যন্ত পবিত্র দুই শহর নাজাফ এবং কারবালায় (যেখানে ইমাম হোসেনের (রা.) মাজার) তাঁর স্মরণে বিশেষ রাষ্ট্রীয় শোকসভা ও বিশেষ শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, কারবালায় খামেনির দাফন না হলেও সর্বোচ্চ সম্মানের অংশ হিসেবে তার মরদেহ সেখানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ইতোমধ্যে ইরানের শহীদ এই নেতার মরদেহ যে মঞ্চে রেখে জানাজা আদায় করা হবে, সেই মঞ্চের ছবি প্রকাশ করেছে ইরান। ৮ ও ৯ জুলাই খামেনির মরদেহ পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে এনে তার জন্মস্থান মাশহাদের পবিত্র ‘ইমাম রেজা মাজারে’দাফন সম্পন্ন করা হবে।
ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এই জানাজায় বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এই শোকযাত্রায় শামিল হতে ইরাক, তুরস্ক, আজারবাইজান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি দল ও বিশ্বনেতারা ইতিমধ্যে ইরানে আসার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া জানাজা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশ্বজুড়ে কয়েক কোটি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করছে দেশটির প্রশাসন।
এদিকে জাতীয় সংসদ সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের বিশেষ আমন্ত্রণে তিনি এই রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন।
৪ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ঐতিহাসিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে ৩ জুলাই স্পিকার তেহরানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং ৯ জুলাই দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত এই সফরকালীন সময়ে তিনি ইরানে অবস্থান করবেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের এক যৌথ হামলায় ইমাম খামেনি নিহত হওয়ার পর এটিই হতে যাচ্ছে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় জমায়েত।