ডে-কেয়ারে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখা হয় ৫০ শিশুকে, সেবন করানো হয় নেশাদ্রব্য

২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১১ PM , আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০২ PM
ভাইরাল ভিডিও থেকে নেওয়া

ভাইরাল ভিডিও থেকে নেওয়া © সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার ইয়োগিয়াকার্তার একটি দিবাযত্ন কেন্দ্রে (ডে-কেয়ার) শিশুদের ওপর পরিকল্পিত ও নৃশংস নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, প্রায় ৫০ জন শিশুকে হাত-পা বেঁধে একটি কক্ষের মেঝেতে অমানবিকভাবে ফেলে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে কেউ নিথর অবস্থায় পড়ে আছে, আবার কেউ নিরবচ্ছিন্নভাবে কেঁদে চললেও উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে কোনো ভ্রূক্ষেপ দেখা যায়নি। এমনকি অনেক শিশুকে অচেতন রাখতে মাদক জাতীয় দ্রব্য সেবন করানোর মতো ভয়াবহ অভিযোগও সামনে এসেছে।

এই রোমহর্ষক ঘটনার প্রেক্ষিতে দ্রুত ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে দেশটির পুলিশ প্রশাসন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ‘লিটল আরেশা’ নামক ওই প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধিত ১০৩ জন শিশুর মধ্যে অন্তত ৫৩ জন এমন ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যাদের বেশিরভাগেরই বয়স মাত্র দুই বছর। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অনেক শিশুকে এমনকি ঘুমন্ত অবস্থায়ও হাত-পা বেঁধে রাখা হতো।

আরও পড়ুন: ঢাবির ছাত্রাবাসের সামনে টিটন হত্যায় ফের আলোচনায় সেই ইমন

ঘটনার প্রেক্ষিতে ইয়োগিয়াকার্তার জালান পাকেলে এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রটি সরকারিভাবে বন্ধ ও সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। ইয়োগিয়াকার্তা মেট্রো পুলিশ প্রধান ইভা গুনা পান্ডিয়া এবং মুখপাত্র প্রধান কমিশনার ইহসান নিশ্চিত করেছেন, এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান, ব্যবস্থাপক এবং ১১ জন কর্মীসহ মোট ১৩ জনকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৩০ জনকে এই ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

স্থানীয় কাউন্সিলর একো সুওয়ান্তো এই ঘটনাকে একটি ‘অস্বাভাবিক অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অপরাধীদের কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেছেন, দোষীদের আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার কঠোর শিশু সুরক্ষা আইন অনুযায়ী এই ধরনের জঘন্য অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড।

ভিডিওটি ‘সেরকান তানিলদিজি’ নামক একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাটি ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোর তদারকি, নিরাপত্তা বিধিমালা এবং শিশু সুরক্ষা আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও অভিভাবকরা এখন ডে-কেয়ার কর্মীদের কঠোর প্রশিক্ষণ এবং বাধ্যতামূলক নজরদারি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজেই গলাপানিতে নেমে খালের কচুরিপানা পরিষ্…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে চাকরি, আবেদন ৫ সেপ্টেম্…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
৮০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে মেমোরিয়ালে এশিয়ার দ্…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
ভুল সিদ্ধান্তে থমকে যেতে পারে ক্যারিয়ার, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
‘আমগাছটা না থাকলে বেঁচে ফিরতে পারতাম না’
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬