জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করল ইরান © সংগৃহীত
পেট্রোকেমিকেল পণ্যের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং কাঁচামালের ঘাটতি ঠেকাতে সব ধরনের রপ্তানি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘ন্যাশনাল পেট্রোকেমিকেল কোম্পানি’ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশটির সব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে এই রপ্তানি স্থগিতাদেশ মেনে চলতে বলেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের বেশ কিছু পেট্রোকেমিকেল উৎপাদন কেন্দ্র ইসরায়েলি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যার ফলে উৎপাদন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কারণে ইরানি বন্দরগুলো থেকে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে দেশের ভেতরে শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে এবং জরুরি পণ্যের সংকট এড়াতে তেহরান এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং অভ্যন্তরীণ শিল্প খাতকে সুরক্ষিত রাখাই এই পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছে আইএমএফ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং হরমোজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়াকেই এই ঝুকিঁর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইএমএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, যা থেকে চলতি বছরের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।
আইএমএফের সংশোধিত পূর্বাভাসে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭ দশমিক ২ পয়েন্ট কমিয়ে আনা হয়েছে, যার ফলে দেশটির অর্থনীতি ৬ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া সৌদি আরবের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।