বাংলাদেশের মতো ভারতেও চালু হচ্ছে ‘সংরক্ষিত নারী আসন’

১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৯ PM
লোকসভা

লোকসভা © টিডিসি সম্পাদিত

ভারতের লোকসভায় নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এক ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসন চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। বৃহস্পতিবার সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী মোদি এই বার্তাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। নতুন এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লোকসভার মোট আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। 

বৃহস্পতিবার সকালে অধিবেশন শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় লেখেন, ‘সংসদের বিশেষ অধিবেশনে ভারত নারী ক্ষমতায়নের পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত। মা এবং বোনেদের সম্মান জানালেই দেশকে সম্মান জানানো হয়। এই ভাবনাকে পাথেয় করেই আমরা দৃঢ়সংকল্প করে এই পথে এগিয়ে চলেছি।’

সংসদীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবারই সাংসদদের কাছে বিলগুলোর খসড়া পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে নারী সংরক্ষণের জন্য ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল, লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার জন্য আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। এই বিলগুলো ভারতের সংসদের উভয় কক্ষে পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলে কার্যকর হবে। এর ফলে নতুন বর্ধিত আসন সংখ্যার ৩৩ শতাংশ বা এক-তৃতীয়াংশ আসনে কেবল নারী প্রতিনিধিরাই অংশ নিতে পারবেন।

এর আগে ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিলটি লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাস হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, পরবর্তী আদমশুমারির পর আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে এবং তারপরই নারী সংরক্ষণ কার্যকর হবে। তবে বর্তমান সরকার আদমশুমারির জন্য আর অপেক্ষা না করে আসন পুনর্বিন্যাস ও নারী সংরক্ষণকে একত্রে জুড়ে দেওয়ায় কংগ্রেস, তৃণমূল ও ডিএমকেসহ বিরোধী দলগুলো কড়া সমালোচনা শুরু করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারের এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।

আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় বুধবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন জরুরি বৈঠক করেছেন এবং বৃহস্পতিবার সকালে বিলের খসড়া পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একইভাবে রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদি সরকারের সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘বিজেপির একটি বিপজ্জনক পরিকল্পনা হল— ২০২৯ সালের নির্বাচনের জন্য সব লোকসভা আসন নিজেদের সুবিধামতো জালিয়াতি করা।’ এই বিল রুখতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র প্রতিনিধিরা দিল্লিতে বৈঠক করেছেন, যেখানে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, রাহুল গান্ধী এবং তৃণমূলের সাগরিকা ঘোষসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিরোধী দলগুলোর এমন কঠোর অবস্থানের মুখে পালটা জবাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে বিরোধীদের গুজব ছড়ানো উচিত না। এর উদ্দেশ্য নিয়েও ভুল ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। বিরোধী দলগুলোর কাছে আমার একটিই অনুরোধ। দয়া করে আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে গুজব ছড়াবেন না। আসন পুনর্নির্ধারণের অজুহাতে মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতা করবেন না।’ সরকারের দাবি, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতেই এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

এমপিও: যে ৩৩ শিক্ষককে বোর্ড সভায় হাজির হওয়ার নির্দেশ মাউশির
  • ১৬ এপ্রিল ২০২৬
সমর্থকদের জন্য অভিনব উদ্যোগ তামিম ইকবালের
  • ১৬ এপ্রিল ২০২৬
‘ছুটির ঘণ্টা’ স্টাইলে শৌচাগারে আটকে শিশুর প্রাণসংকট, অতঃপর.…
  • ১৬ এপ্রিল ২০২৬
যোগ্যতাভিত্তিক সাক্ষাৎকার পদ্ধতি চালু হচ্ছে বিসিএসে: জনপ্রশ…
  • ১৬ এপ্রিল ২০২৬
দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কারিগরি স্কুল হবে: শিক্ষামন্…
  • ১৬ এপ্রিল ২০২৬
স্ত্রীর হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী আটক
  • ১৬ এপ্রিল ২০২৬