শেকেল ও ডলার © সংগৃহীত
মধ্যেপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইসরায়েলি মুদ্রা শেকেল গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার ডলারের ব্যাপক দরপতনের ফলে এই উত্থান দেখা যায়। যা বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিন ডলারের মান প্রায় ১.২ শতাংশ কমে ৩.০১ শেকেলে নেমে আসে। এর ফলে ১৯৯৫ সালের অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো ডলারের দর ৩-শেকেলের প্রতীকি সীমার খুব কাছাকাছি চলে আসে। একই সঙ্গে ইউরোর বিপরীতেও শেকেল শক্তিশালী হয়েছে; ইউরোর মান ০.৫ শতাংশ কমে প্রায় ৩.৫৫ শেকেলে নেমেছে।
বিশ্ববাজারে এই সময় মুদ্রাবাজারে এক ধরনের মিশ্র প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ডলারের দুর্বলতার সুযোগে ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ড কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। মূলত ইরানের রপ্তানির ওপর মার্কিন অবরোধ এবং ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনার অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক বাজারে চাপ তৈরি করেছে। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতির সম্ভাব্য অগ্রগতির আভাস বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে, যা ইসরায়েলি মুদ্রাকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হয়েছে।
সামরিক উত্তেজনা কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকা এবং নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হওয়াও শেকেলের এই উত্থানের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে এই প্রবণতা দ্রুত পাল্টে যেতে পারে।
এদিকে শেকেলের শক্তিশালী অবস্থানের মধ্যেও যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। ধারণা করা হচ্ছে, চলমান সংঘাতের সরাসরি খরচ কয়েক হাজার কোটি শেকেল ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা দেশটির রাষ্ট্রীয় কোষাগার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।