মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ © সংগৃহীত
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শান্তি আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। রক্ষণশীল ঘরানার এই রাজনীতিক ইরানের ক্ষমতা কাঠামোয় অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ব্যক্তিত্ব। আলোচনার প্রাক্কালে তিনি একদিকে যেমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার গভীর অবিশ্বাসের কথা জানিয়ে বলেছেন যে, অতীতে ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনা কেবল ‘অঙ্গীকার লঙ্ঘনের’ তিক্ত অভিজ্ঞতাই বয়ে এনেছে।
১৯৬১ সালে জন্ম নেওয়া গালিবাফের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৮০ সালে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরে (আইআরজিসি) যোগদানের মাধ্যমে। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তিনি নিজেকে একজন দক্ষ কমান্ডার হিসেবে প্রমাণ করেন এবং পরবর্তীতে আইআরজিসির এয়ারফোর্স প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক বাহিনী থেকে রাজনীতিতে আসার পর তিনি তেহরানের মেয়র হিসেবে টানা ১২ বছর দায়িত্ব পালন করেন, যা নগরটির ইতিহাসে দীর্ঘতম। তেহরানের আধুনিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য তাকে কৃতিত্ব দেওয়া হলেও তার সময়কালে কিছু আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও আলোচিত হয়েছে।
রাজনীতিতে আসার পর থেকে গালিবাফ চারবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তবে প্রতিবারই তাকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে; ২০০৫ সালে চতুর্থ এবং ২০১৩ সালে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের আগাম নির্বাচনেও তিনি তৃতীয় হন। রাজনৈতিক ব্যর্থতা থাকলেও ২০২০ সালের মে মাস থেকে তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানে ইন্টারনেট সীমিত থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তার সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গালিবাফের মতো একজন কট্টরপন্থী নেতার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল পাঠানো তেহরানের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যা আলোচনার টেবিলে ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।