প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
ইরানের জব্দ করা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটন রাজি হয়েছে বলে যে খবর চাউর হয়েছে, তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে থাকা ইরানের স্থবির হয়ে পড়া অর্থ মুক্ত করে দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই তথ্যটি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন।
রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছিল, কাতার ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের তহবিল ছাড় দেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটন সম্মতি দিয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায়, নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ইরানি সূত্রটি এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সিরিয়াস বা আন্তরিকতার লক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তিনি মনে করেন, এই উদ্যোগ ইসলামাবাদের আলোচনার টেবিলে একটি ইতিবাচক ফলাফল আনতে সহায়ক হতো।
তবে মার্কিন প্রশাসন এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সবুজ সংকেত দেয়নি। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই ইরানি সূত্রটি আরও জানিয়েছিলেন, জব্দ করা অর্থ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তার সাথে সরাসরি যুক্ত। অর্থাৎ ইরান যদি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয়, তবেই ওয়াশিংটন তাদের অর্থ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসলামাবাদে চলমান শান্তি আলোচনায় এই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে উত্থাপন করেছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সম্পদগুলো মুক্ত করা হলে তা দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। তবে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বর্তমানে এটি অস্বীকার করায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার টেবিলে নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
তবে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে এই বিষয়ে কোনো ইতিবাচক মন্তব্য না করায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে ইসলামাবাদের পরবর্তী ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।