ব্যাকটেরিয়া জোড়া Neisseria meningitidis এর মাইক্রোস্কোপিক ছবি © সংগৃহীত
কানাডায় বিরল কিন্তু অত্যন্ত বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ ‘ইনভেসিভ মেনিনগোকক্কাল ডিজিজ’ আ আইএমডিতে বার্ষিক আক্রান্তের সংখ্যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই রোগটি মেনিনজাইটিস (মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের চারপাশের ঝিল্লির প্রদাহ), রক্তে সংক্রমণ, সেপসিস এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতিসহ দীর্ঘমেয়াদি পঙ্গুত্ব বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। খবর সিবিসির
ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, এই রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু এবং তরুণদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। নোভা স্কোটিয়া হেলথের আঞ্চলিক মেডিকেল কর্মকর্তা ড. ক্রিস্টিন মুয়েকে বলেন, ‘অল্প বয়সে এই রোগের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। রোগটি বিরল হলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব অনেক বেশি।’
কানাডার পাবলিক হেলথ এজেন্সির তথ্য বলছে, ২০০০-এর দশকের শুরুতে মেনিনগোকক্কাল টিকার প্রচলনের পর এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গিয়েছিল। এমনকি করোনাকালের কঠোর বিধিনিষেধের মাঝে ২০২১ সালে আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড সর্বনিম্ন (৪৮ জন) হয়েছিল। এরপর ২০২২ সালে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৪ জনে এবং ২০২৩ সালে তা প্রায় ১০০-তে পৌঁছায়।
সিবিসি নিউজ-এর সংগৃহীত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক। ২০২৪ সালে অন্তত ১৩২ জন এবং ২০২৫ সালে ১৫৫ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, যা ২০১২ সালের পর দেশটির সর্বোচ্চ রেকর্ড। এমনকি চলতি বছরেও (২০২৬ সালে) দেশটির ১০টি প্রদেশে ইতোমধ্যে অন্তত ৬৩টি কেস শনাক্ত হয়েছে।
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যালিসন ম্যাকগিয়ার বলেন, ‘মহামারির বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পর অন্যান্য রোগের মতো এর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে এই ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণটির তীব্রতা অনেক বেশি হওয়ায় এটি সামলানো বেশ কঠিন।’
তিনি আরও জানান, ‘এই রোগের গতিপ্রকৃতি আগে থেকে অনুমান করা খুবই কঠিন। বিভিন্ন প্রদেশে এই ব্যাকটেরিয়ার আলাদা আলাদা সাব-টাইপ বা উপধরন দেখা যায়, যা হঠাৎ করেই সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয়। কেন এই রোগটি এভাবে তার রূপ পাল্টাচ্ছে, তার সঠিক কোনো ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীদের কাছে নেই বলেও জানান তিনি।’