হামের ‘হাই রিস্ক হটস্পট’ ৩০ উপজেলা, কাল শুরু হচ্ছে জরুরি টিকাদান

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৩ PM
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয় © সংগৃহীত

আগামীকাল রবিবার (৫ এপ্রিল) দেশে হাম রোগের জরুরি টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করতে যাচ্ছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ৩০ উপজেলায় এই টিকা প্রদান করা হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ধীরে ধীরে সারাদেশে এই কার্যক্রম ছড়ানো হবে, যা শেষ হবে আগামী ২১ মের মধ্যে।

আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল এসব তথ্য জানান। শুরু হতে যাওয়া হাম রোগের টিকাদান কার্যক্রমের প্রস্তুতি বিষয়ে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

হাইরিস্ক হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ৩০ উপজেলা হল চাঁদপুরের সদর ও হাইমচর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, গাজীপুর সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট, পাবনার ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া, নেত্রকোনার আটপাড়া, ময়মনসিংহের সদর, ত্রিশাল ও তারাকান্দা, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, নওগাঁর পোরশা, যশোর সদর, নাটোর সদর, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর, মাদারীপুর সদর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, ঝালকাঠির নলছিটি ও শরীয়তপুরের জাজিরা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামীকাল সকাল ৯টায় এই জরুরি টিকাদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন একযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল ঢাকার নবাবগঞ্জে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজারে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত পাবনা সদরে, বিএনপি চেয়ারম্যানের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ঝালকাঠির নলছিটিতে এবং স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী গাজীপুরে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। এই সমন্বিত উদ্বোধন সরকারের সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল তার বক্তব্যে বলেন, দেশে বর্তমানে কিছু এলাকায় হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশেষ করে ছোট শিশুদের ওপর প্রভাব ফেলছে। সরকার এই পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনা যায়।

তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে জাতীয় টিকাদান বিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটি (নাইট্যাগ) একটি জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ করেছে। এই কার্যক্রমটি একটি সমন্বিত প্রতিরোধ পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এই কার্যক্রমের আওতায় ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশু অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তারা পূর্বে টিকা নিয়ে থাকুক বা না থাকুক। এর মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে কোনো শিশুই সুরক্ষার বাইরে না থাকে।

এই কার্যক্রমটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথম পর্যায়ে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট এলাকায় কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর রোগের পরিস্থিতি এবং মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতির ভিত্তিতে ধীরে ধীরে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হল ২১ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার পূর্বেই, পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তবে যেসব শিশুর জ্বর আছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদেরকে এই সময় টিকা দেওয়া হবে না। তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর টিকা গ্রহণ করবে। হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন সকল শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে এবং দ্রুত সুস্থতায় সহায়তা করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান। এই কার্যক্রম সফল করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা অভিভাবক, স্থানীয় নেতৃত্ব, গণমাধ্যম এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে অনুরোধ করছি সঠিক তথ্য প্রচার করতে এবং গুজব প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ব্যবহৃত টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, তবে সবাইকে সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করতে পারলে আমরা এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হব। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অবশ্যই এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পারব।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত, বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. এস.এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে কত আবেদন পড়ল, জানালেন চেয়ারম্যান
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
মার্কেট অডিটে এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে এসিআই, আবেদন শেষ ১১ এপ…
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ইউআইইউ’র বিএসসিএসই প্রোগ্রাম পেল ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড স্বীকৃতি
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
অনলাইন ক্লাস নিয়ে মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত পায়নি শিক্ষা মন্…
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
‎হবিগঞ্জে ৩১০০ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬