এফ-১৫ এর পর ইরানে এ-১০ যুদ্ধবিমান হারাল যুক্তরাষ্ট্র, নিখোঁজ পাইলট

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৩ AM
এফ-১৫ যুদ্ধবিমান

এফ-১৫ যুদ্ধবিমান © সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যে শুক্রবার পৃথক দুই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। এ ঘটনায় এক ফাইলট নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাকে উদ্ধারে জোরদার তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, ভূপাতিত বিমান দুটি হলো একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান এবং একটি এ-১০ আক্রমণকারী বিমান। উভয় বিমানই ইরানের গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ইরানের ভেতরে বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ বিমানে থাকা দুই ফাইলটের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে তার শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অপর ফাইলট এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

অন্যদিকে, এ-১০ বিমানের পাইলট ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় বিমানটি কুয়েতের আকাশসীমায় নিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে তিনি সেখানেই ইজেক্ট করে বেরিয়ে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, নিখোঁজ ফাইলটকে উদ্ধারের জন্য পরিচালিত অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারও ইরানি গুলির মুখে পড়ে। এতে হেলিকপ্টারে থাকা কয়েকজন মার্কিন সদস্য আহত হন। তবে দুটি হেলিকপ্টারই নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরে এসেছে বলে জানানো হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে ইরানের আকাশসীমায় সম্পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আগের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এক মাস ধরে ইরানের সামরিক স্থাপনায় লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানোর পরও দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি বলে এতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নিখোঁজ এফ-১৫ ফাইলটকে উদ্ধারের অভিযানকে এখন পর্যন্ত যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এতে উদ্ধারকারী দল সরাসরি ইরানি হামলার ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। সংঘাত শুরুর পর শত্রু ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন মানববাহী যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিক্ষোভ মিছিল আজ

এ ঘটনাকে রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ব্যয়বহুল যুদ্ধ এড়ানোর কথা বললেও বর্তমান সংঘাত সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে সমালোচকরা মনে করছেন। সম্প্রতি এক ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই অভিযান ‘শেষ পর্যায়ে’ রয়েছে। তবে শুক্রবারের ঘটনায় সেই সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত খবরে বলা হয়েছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কিছু ব্যবসায়ী ভূপাতিত বিমানের ক্রুদের সন্ধান দিলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্য এক সম্প্রচারে সাধারণ মানুষকে মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার আহ্বান জানানো হয়। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী জনগণকে পাইলটদের প্রতি কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে খুব সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক মন্তব্যে তিনি বলেন, এই ঘটনা যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে প্রভাবিত করবে না বলে তিনি মনে করেন। নিখোঁজ ফাইলট ধরা পড়লে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কী প্রতিক্রিয়া হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, এমন কিছু ঘটবে না,’ এবং এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মিশনগুলোর একটি। কারণ এসব অভিযানে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার ও বিমানগুলো তুলনামূলক নিচুতে ও ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হয়, ফলে শত্রুপক্ষের গুলির ঝুঁকি বেড়ে যায়। অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল জেমস স্লাইফ বলেন, ‘এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মিশন। কেউ যত বেশি সময় মাটিতে থাকে, তাকে নিরাপদে উদ্ধারের সুযোগ তত কমে যায়।’

এদিকে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে—এমন দাবিও বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। বিশেষ করে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বা স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো কার্যকর হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, চলমান এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে সাতজন সরাসরি হামলায় এবং ছয়জন ইরাকে একটি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। এছাড়া প্রায় ৩৭০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবারের এই ঘটনায় ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এটি চতুর্থবারের মতো এফ-১৫ যুদ্ধবিমান হারানোর ঘটনা। এর আগে মার্চ মাসের শুরুতে কুয়েতের বাহিনী ভুলবশত তিনটি এফ-১৫ ভূপাতিত করেছিল, যদিও সেসময় সব ফাইলট নিরাপদে উদ্ধার হয়েছিলেন। আর এ-১০ বিমানের ক্ষেত্রে এটি সংঘাত চলাকালে প্রথম ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা।

ভবন দখলের হুমকির পর জাবি ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা বহিষ্কার
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
ঢাবি ভিসির জাপান-কোরিয়া সফরে যত অর্জন
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
মার্কিন শেয়ারবাজার থেকে ১ দিনেই উধাও ৩.২ ট্রিলিয়ন ডলার
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
চালুর পর বছর না ঘুরতেই প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের উদ্যোগ
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
তত্ত্বাবধায়ক মানতে হয়েছে, সংস্কারও মানতে বাধ্য হবে— বিএনপিক…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ২ দফা দাবি দিল অ্যাপ্লাইড হিউম…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950