বিচারবিষয়ক মন্ত্রী হরসানা নানায়াক্কারা © টিডিসি ফটো
শ্রীলঙ্কায় সাবেক সংসদ সদস্য এবং প্রয়াত সংসদ সদস্যদের স্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত পেনশন সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে জনরোষ এবং সংস্কারের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে এখন থেকে কোনো সাবেক এমপি বা প্রয়াত এমপির স্ত্রী আর সরকারি এই আর্থিক সুবিধা পাবেন না। খবর এনডিটিভি।
বিচারবিষয়ক মন্ত্রী হরসানা নানায়াক্কারা বুধবার পার্লামেন্টে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণ যখন টেলিভিশনে পার্লামেন্টে এমপিদের বিতর্ক দেখেন, তখন তারা মনে করেন এমপিরা পেনশন পাওয়ার যোগ্য নন।’ এর আগে মঙ্গলবার পার্লামেন্টে এমপিদের পেনশন বাতিল সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করা হয় এবং ভোটাভুটির মাধ্যমে তা পাস হয়। ২২৫ আসনের সংসদে ১৫৪ জন সদস্য এই বিলের পক্ষে ভোট দেন।
২০২১ সালের পর থেকে করোনাভাইরাস মহামারি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটের কারণে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি গভীর সংকটে নিমজ্জিত। এ প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন বামপন্থী নেতা অনুরা কুমারা দিশানায়েকে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি দুর্নীতি রোধ ও খরচ কমাতে কঠোর অবস্থান নেন এবং ধাপে ধাপে এমপিদের আবাসন, যানবাহন ও দেহরক্ষীর সুবিধা বাতিল করেন। সেই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ পেনশন সুবিধাও বাতিল করা হলো।
তবে বিলটির তীব্র বিরোধিতা করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা। এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে পার্লামেন্টে তিনি বলেন, ‘পেনশন আইনপ্রণেতাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এটি বাতিল হলে তারা দ্বিধাহীনভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়তে পারেন।’