সার্বিয়ায় দুর্নীতি বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন © আল জাজিরা
ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায় দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিকদের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা এবং তাদের সম্পদের তদন্তের প্রস্তাব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে, ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচের শাসনামলে দীর্ঘদিন ধরে চলা ব্যাপক দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক বছরের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালাচ্ছে দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।
সেই ধারাবাহিকতায়, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সার্বিয়ার শহর নোভি সাদে আয়োজিত সমাবেশে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা ‘চোর’ স্লোগান দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা জানান, সার্বিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তারা একটি রূপরেখা তৈরি করেছেন। ভুচিচ-পরবর্তী সরকার গঠনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তারা দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা এবং তাদের সম্পদের তদন্তের প্রস্তাব দেন।
ওই সমাবেশে শিক্ষার্থীরা জানান, গত মাসে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের দাবিতে প্রায় চার লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন।
আয়োজকদের মতে, পরবর্তী বিক্ষোভ সমাবেশ আগামী ২৭ জানুয়ারি সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে অনুষ্ঠিত হবে।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি শহরে ট্রেনস্টেশনে দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই সার্বিয়ায় নিয়মিত শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ চলছে। এই দুর্ঘটনাকে দেশটিতে দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্টেশনটির ছাদ ধসের ঘটনায় সাবেক নির্মাণমন্ত্রী গোরান ভেসিচসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে গত মাসে নোভি সাদের হাইকোর্ট ভেসিচের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খারিজ করে দেয়।
একই সঙ্গে প্রকল্পটিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থ অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইইউ-সমর্থিত একটি তদন্তের পাশাপাশি পৃথক দুর্নীতিবিরোধী তদন্তও চলমান রয়েছে।
গত নভেম্বর মাসে দুর্ঘটনার প্রথম বার্ষিকীতে নোভি সাদে কয়েক দশ হাজার মানুষ নিহত ১৬ জনের স্মরণে ১৬ মিনিট নীরবতা পালন করেন।
ট্রেনস্টেশন ধসকে কেন্দ্র করে চলা এই আন্দোলনের ফলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন, তার সরকারের পতন ঘটে এবং নতুন সরকার গঠিত হয়। তবে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ এখনো অনড়ভাবে ক্ষমতায় বহাল রয়েছেন।
ভুচিচ দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং বিক্ষোভকারীদের বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত অভ্যুত্থানচেষ্টাকারী বলে আখ্যা দিচ্ছেন। তার দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস)-এর নেতারাও নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়েছেন, এমনকি ট্রেনস্টেশন ধসকে পরিকল্পিত হামলা বলেও দাবি করেছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিকৃত দ্রুত আগাম নির্বাচন আয়োজনেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ভুচিচ। সরকারবিরোধী অবস্থানের কারণে ইতোমধ্যে শত শত মানুষ আটক হয়েছেন, কেউ কেউ চাকরি হারানোর অভিযোগ করেছেন, আবার অনেকেই চাপের মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।
দশ বছরেরও বেশি আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নে সার্বিয়াকে যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন ভুচিচ। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছেন। একই সঙ্গে দেশে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা খর্ব করা এবং দুর্নীতি ও সংগঠিত অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছে।
এই শিক্ষার্থী আন্দোলন সাধারণ সার্বদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে, যারা মূলধারার রাজনীতিকদের ওপর আস্থা হারিয়েছেন। তবে ভুচিচ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছেন, তারা অজ্ঞাত পশ্চিমা নির্দেশে কাজ করে সার্বিয়াকে ‘ধ্বংস’ করতে চায়।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা।