ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্টকে তুলে নেওয়ার অনেক আগে থেকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল যুক্তরাষ্ট্র

১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৯ AM
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো © সংগ্রহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজধানী কারাকাস থেকে তুলে আনার জন্য মার্কিন সামরিক অভিযান চালানোর কয়েক মাস আগে থেকেই দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন। এমনকি মাদুরোকে তুলে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পরও এই যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মার্কিন কর্মকর্তারা ৬২ বছর বয়সী কাবেলোকে সতর্ক করেছিলেন, তিনি যেন তার নিয়ন্ত্রণে থাকা নিরাপত্তা বাহিনী বা সশস্ত্র সমর্থকদের দিয়ে বিরোধীদের ওপর কোনো হামলা না করেন। ৩ জানুয়ারির অভিযানের পরও ভেনেজুয়েলার গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ এবং সশস্ত্র বাহিনী মূলত কাবেলোর নিয়ন্ত্রণেই আছে।

মার্কিন প্রশাসন নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিতে মাদক পাচারের যে অভিযোগ ব্যবহার করেছিল, সেই একই অভিযোগে কাবেলো নিজেও অভিযুক্ত। তবে অভিযানের সময় তাঁকে ধরা বা তুলে নেওয়া হয়নি।

মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন, কাবেলো যদি তার বাহিনী নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে স্থিতিশীলতা চাইছেন, তা নষ্ট হতে পারে। এ ছাড়া বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের ক্ষমতাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

কাবেলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা এবং তার বিরুদ্ধে থাকা আইনি মামলা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সরাসরি ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলছেন।

কাবেলো দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং মাদুরোর অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত। বর্তমান প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ও কাবেলো দীর্ঘদিন সরকারের কেন্দ্রে থাকলেও তারা একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু নন।

কাবেলো সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। ফলে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এবং ‘কালেকতিভো’–এর (মোটরসাইকেল আরোহী সশস্ত্র বেসামরিক বাহিনী) ওপর তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। অতীতে বিক্ষোভকারীদের ওপর এসব বাহিনীর হামলা চালানোর ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র আপাতত তেলের খনিসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাবেলোর ওপর কিছুটা নির্ভর করছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মনে ভয় আছে, কাবেলো যেকোনো সময় ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিতে পারেন।

মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়ার প্রথম কয়েক দিন কাবেলো মার্কিন হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তবে গত কয়েক দিনে ভেনেজুয়েলায় তল্লাশি বা ধরপাকড়ের খবর আগের চেয়ে কমেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বর্তমান ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কাবেলো এ বিষয়টি দেখাশোনা করছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, মুক্তির এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতির এবং এখনো শত শত মানুষ অন্যায়ভাবে বন্দী রয়েছেন।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স। 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে বই প্রকাশ
  • ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সরকার গঠন করলে নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করার কথা জানালেন জামায়…
  • ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মোটরসাইকেল ও নির্ধারিত যান চলাচল বন্ধ কবে থেকে?
  • ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফুলকোর্ট সভা ডেকেছেন প্রধান বিচারপতি
  • ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশকে দখলদার-সন্ত্রাস মুক্ত করতে তরুণরা প্রস্তুত আছে: …
  • ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জাতীয় দলে চোখ সেই সাকলাইনের
  • ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬