চীনা ও কানাডার প্রেসিডেন্ট © সংগৃহীত
প্রায় এক দশকের শীতল সম্পর্ক কাটিয়ে বেইজিং ও অটোয়া একটি 'নতুন কৌশলগত অংশীদারিত্ব' গড়ে তুলতে একমত হয়েছে। এই সম্পর্কের অংশ হিসেবে কানাডা তাদের বাজারে ৪৯ হাজার চীনা ইলেকট্রিক গাড়ি প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার ঐতিহাসিক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কার্নি জানান, কানাডা তাদের বাজারে এসব গাড়ির ক্ষেত্রে 'মোস্ট-ফেভারড-নেশন' শুল্ক হার ৬.১ শতাংশ হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
কানাডা বর্তমানে তার এনার্জি গ্রিড সক্ষমতা দ্বিগুণ করার এবং পরিচ্ছন্ন শক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। প্রধানমন্ত্রী কার্নি এই পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে চীনকে বিনিয়োগ করার জন্য স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে, কার্নি আশা প্রকাশ করেছেন যে চীন আগামী ১ মার্চের মধ্যে কানাডিয়ান ক্যানোলা বীজের ওপর শুল্ক কমিয়ে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনবে। তিনি বলেন, 'এই চুক্তির মাধ্যমে আমরা অনেক দীর্ঘমেয়াদী বাধা দূর হওয়ার আশা করছি।'
হুয়াওয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের পর দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ দশ বছর যে অনিশ্চয়তা ছিল, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে কার্নি তা 'কৌশলগতভাবে, বাস্তবসম্মতভাবে এবং দৃঢ়ভাবে' পুনর্গঠন করতে শুরু করেছেন।
শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকে কার্নি শুরুতে ফরাসি ও পরে ইংরেজিতে কথা বলেন। তিনি স্বীকার করেন যে, গত এক দশক ধরে দুই দেশের সম্পর্ক শীতল ছিল। তবে শুক্রবারের বৈঠকে শি জিনপিং সম্পর্কের ক্ষেত্রে আসা ‘ইতিবাচক পরিবর্তনের’ প্রশংসা করেন। শি জিনপিং কার্নির কাছে ‘চারটি প্রস্তাব’ তুলে ধরেন, যেখানে তিনি পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস, যৌথ উন্নয়ন এবং সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। কার্নিও একটি ‘নতুন’ সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কৃষি, জ্বালানি ও অর্থায়ন খাতে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চীন বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনকারী দেশ হলেও পশ্চিমা দেশগুলো চীনের বিরুদ্ধে এই শিল্পে ভর্তুকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে আসছিল। ২০২৪ সালে কানাডা চীনা গাড়ির ওপর ১০০ শতাংশ চড়া শুল্ক আরোপ করলে বেইজিং ক্ষুব্ধ হয়ে কানাডিয়ান ক্যানোলা ও মাংসের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আলোচনা স্থবির থাকলেও বেইজিং সফরে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ বলেন, ‘এ বিষয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।’ কার্নি এবং শি জিনপিং একটি ঘরোয়া মধ্যাহ্নভোজ বা ওয়ার্কিং লাঞ্চেও অংশ নিয়েছেন। সম্পর্কের এই নয়া মোড় কানাডার কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।