প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
সিলেট ও আশপাশের এলাকায় ভোররাতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য কম্পন অনুভূত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল জানালেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।
ফেসবুকে নিজ ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে পলাশ বলেন, ‘বাংলাদেশে যে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়েছে আজ ভোর ৪ টা বেজে ৪৭ মিনিটে। তার উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের রাজধানী গোয়াহাটি এর পাশে মরিগাও নামক স্থানে। ভূমিকম্পটির মান ছিল ৫ দশমিক ১ মাত্র। ভু-পৃষ্ঠ থেকে ৫০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে উল্লেখ্য যে আজ ভোর ৪ টা বেজে ৩ মিনিটের সময় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উপরে ৩ দশমিক ৯ মাত্রার আর একটি ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে। এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্হল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫৪ কিলোমিটার গভীরে।’
আরও পড়ুন : শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশ, আজ সূর্যের আলো দেখা যাবে কিনা জানাল আবহাওয়াবিদ
এদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য বলছে, ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৪। উৎপত্তিস্থল ভারতের আসাম রাজ্যের মরিগাওয়ে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ৩৫ কিলোমিটার।
ইউরো-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) ও আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৪।
জানা গেছে, সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার, উপশহর, আম্বরখানা, টিলাগড়, শাহপরান থানা এলাকা ছাড়াও দক্ষিণ সুরমা, জৈন্তাপুর ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় ও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ভূকম্পনের মাত্রা ও উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে কিছু জানায়নি।
উল্লেখ্য, সিলেট অঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এর আগে বিভিন্ন সময়ে এখানে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।