ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা © টিডিসি ফটো
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ’ সহিংসভাবে দমন করার অভিযোগে ইরানের পাঁচ কর্মকর্তার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তেলের আয় থেকে বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগে আরও ১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা পাঁচ কর্মকর্তা ইরানের নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ন্যায়ের দাবিতে রাজপথে নামা ইরানি জনগণের পাশে যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানি। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনে তিনি সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছেন এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া লোরেস্তান ও ফারস প্রদেশে দমনমূলক অভিযানের অভিযোগে ইরানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিপ্লবী গার্ডের চারজন আঞ্চলিক কমান্ডারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ আরও ১৮ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকাভুক্ত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যে অবস্থিত বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে তেল বিক্রির অর্থ ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
ট্রেজারি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব গোপন নেটওয়ার্ক ও মানি এক্সচেঞ্জ হাউস ব্যবহার করে প্রতিবছর বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়, অথচ ইরানের সাধারণ মানুষ চরম অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সব সম্পদ জব্দ করা হবে। একই সঙ্গে কোনো মার্কিন নাগরিক তাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবেন না। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে লেনদেন করলে বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৮৭৫টির বেশি জাহাজ, উড়োজাহাজ ও ব্যক্তি নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে।