ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান © সংগৃহীত
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অভিযোগ সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার সরকার ‘প্রতিবাদকারীদের কথা শুনতে প্রস্তুত’ এবং জনগণকে অনুরোধ করেছেন যেন ‘দাঙ্গাবাজ’ এবং ‘সন্ত্রাসীদের’ কোনোরূপ ক্ষতি করার সুযোগ না দেওয়া হয়।
পেজেশকিয়ান রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সাক্ষাৎকারে এই অস্থিরতা নিয়ে কথা বলেন।
ইরানি প্রেসিডেন্ট আইআরআইবি ব্রডকাস্টারকে বলেন, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র দেশের অস্থিতিশীলতার ‘মাস্টারমাইন্ড’। তিনি বলেন, ‘যেই একই মানুষরা জুনে ইস্রায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধে এই দেশকে আঘাত করেছিল, তারা এখন অর্থনৈতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে এই অস্থিরতাকে তীব্র করার চেষ্টা করছে।’
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘তারা দেশের ভেতর এবং বাইরে কিছু মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে; বিদেশ থেকে কিছু সন্ত্রাসী এনে যুক্ত করেছে।’ তিনি দাবি করেন, এই অপরাধীরারাসহ শহরের একটি বাজারে হামলা চালিয়েছে এবং ‘মসজিদে আগুন দিয়েছে।’
আরও পড়ুন: ইরানে যতবার বিক্ষোভ হয়, ততবারই তাদের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা শক্তিশালী হয়
প্রেসিডেন্ট বলেন, সরকার ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ শুনেছে এবং তাদের সমস্যা ‘যেকোনো প্রয়োজনীয় উপায়ে’ সমাধান করবে। তবে তিনি জনগণকে অনুরোধ করেন যেন ‘দাঙ্গাবাজরা’ দেশকে বিশৃঙ্খলাপূর্ণ না করে।
তিনি বলেন, ‘দাঙ্গাবাজরা প্রতিবাদকারী মানুষ নয়। আমরা প্রতিবাদকারীদের কথা শুনছি এবং তাদের সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি’।
অর্থনৈতিক অভিযোগ থেকে শুরু হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বড় আন্দোলনে রূপ নেওয়া এই প্রতিবাদ ইরানে ২০২২–২০২৩ সালের মাহসা আমিনির মৃত্যুর পরের আন্দোলনের পর থেকে সর্ববৃহৎ। মাহসা আমিনি, ২২ বছর বয়সী, নারীদের কঠোর পোশাক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন এবং কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা।