মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প © সংগৃহীত
দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রয় ও বিপণন ব্যবস্থা অনির্দিষ্টকালের জন্য নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে আটক করার পর এবার ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) মার্কিন হোয়াইট হাউস ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন ট্যাঙ্কার ও স্টোরেজ সুবিধায় আটকে থাকা প্রায় ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারমূল্যে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছে মার্কিন প্রশাসন। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি ডলার (প্রায় ২.২ বিলিয়ন পাউন্ড)।
মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, শুধুমাত্র বর্তমানে মজুদ থাকা তেলই নয়, ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ উত্তোলিত তেলের বিক্রয় ব্যবস্থাও অনির্দিষ্টকালের জন্য ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে, যা পরবর্তীতে ‘ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে’ ব্যয় করা হবে বলে দাবি করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
ভেনেজুয়েলার ওপর এই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আটলান্টিক ও ক্যারিবীয় সাগরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার উত্তর আটলান্টিকে ইরান থেকে ভেনেজুয়েলাগামী রুশ পতাকাবাহী ‘মারিনেরা’ (পূর্বনাম বেলা-১) নামক একটি বিশাল তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করে মার্কিন বাহিনী।
আরও পড়ুন: জকসু নির্বাচনে যে ৫ পদে হারল শিবির
জাহাজটি রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহরের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযান চলাকালে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, কারণ মস্কো জাহাজটিকে সুরক্ষা দিতে একটি সাবমেরিন পাঠিয়েছিল বলে খবর পাওয়া গেছে। এর কিছুক্ষণ পরই ক্যারিবীয় সাগর থেকে ‘সোফিয়া’ নামে আরও একটি ট্যাঙ্কার জব্দ করে মার্কিন কোস্ট গার্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ‘ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ অর্থনৈতিক ধস এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তারা বুঝতে পেরেছে যে তেল সরবরাহ ও রাজস্ব আদায়ের একমাত্র পথ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করা।’
অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলা তখনই তেল বিক্রি করতে পারবে যখন তা আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে।
ভেনেজুয়েলার তেলের এই বিশাল সরবরাহ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে চীন, যারা ভেনেজুয়েলার মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ ক্রয় করে থাকে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মার্কিন পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে সরাসরি ঘোষণা করেছেন যে, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির সমস্ত অর্থ ব্যক্তিগতভাবে তার (প্রেসিডেন্ট হিসেবে) নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং এই তেল সরাসরি আমেরিকার বন্দরে খালাস করা হবে।
‘আমি মাত্র জানতে পারলাম যে, আমাদের নতুন তেল চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা যে অর্থ পাবে, তা দিয়ে তারা কেবল ‘আমেরিকায় তৈরি’ পণ্যই কিনবে। এই কেনাকাটার তালিকায় থাকবে আমেরিকার কৃষিপণ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম। এছাড়া ভেনেজুয়েলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও আমেরিকা থেকেই কেনা হবে।’
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান